বরিশাল নিউজ।। বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে উত্তরপত্র জালিয়াতির অভিযোগে বরিশাল এয়ারপোর্ট থানায় ১৮ পরীক্ষার্থী সহ ১৯ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. আনোয়ারুল আজিম সোমবার বিকালে মামলাটি দায়ের করেন। ওই মামলায় অপর আসামি বরিশাল বোর্ডের রেকর্ড সাপ্লাইয়ার গোবিন্দ চন্দ্র পালকেও আসামি করা হয়েছে।
বিমানবন্দর থানার ওসি মাহাবুবুর রহমান জানান, বোর্ডের কর্মচারী গোবিন্দ সহ অভিযুক্ত ১৮ পরীক্ষার্থী মামলায় আসামি করা হয়েছে। এদিকে জালিয়াতির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি এখনো প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি।
নিরীক্ষক আবু সুফিয়ান বলেন, আমার শিক্ষকতার বয়স ২৫ বছর। ১০ বছর ধরে আমি খাতা নিরীক্ষণের কাজ করছি। কিন্তু ১৮টি খাতা মূল্যায়ন করতে গিয়ে আমার সন্দেহ হয়। আগে আমরা নিজেরাই উত্তরপত্রে নিজেদের মত করে নম্বর দিতাম। কিন’ সৃজনশীল হওয়ায় প্রশ্নের উত্তর তৈরী করে দেয়া হয়। আমরা খাতা নিরীক্ষণের সময় ওই প্রশ্নপত্রে যে নিয়মে অংক করা সেইভাবে মূল্যায়ন করে নম্বর প্রদান করি। খাতায় মিলিয়ে দেখিয়ে বোর্ড থেকে দেয়া উত্তরপত্রে যেভাবে অংক করা ঠিক সেভাবেই ওই ১৮টি খাতায় অংক তুলে দেয়া হয়েছে। উত্তরপত্রে একটি অংক ১৩ লাইনে শেষ হয়েছে। ওই পরীক্ষার্থীর খাতায়ও ঠিক সেইভাবে ১৩ লাইনে অংক উঠানো। উচ্চতর গনিতে লিখিত পরীক্ষার নম্বর ৫০। এর মধ্যে ‘ক’ অথবা ‘খ’ যেকোন গ্রুপ থেকে কমপক্ষে দুটিসহ ৫টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। চারজন পরীক্ষার্থী ফাঁস করা উত্তরশীট দেখে সব অংকই একই গ্রুপ থেকে তুলে রেখেছেন। ফলে তাদেরকে ৪০ দেয়া হয়েছে। বাকী ১৪ জন পেয়েছেন ৫০ এর মধ্যে ৫০। শুধু তাই নয় একটি অংক আসছে যেটি করতে গেলে আমারও অন্তত ১০ বার কাটাছেড়া করতে হবে। অথচ ও ১৮ পরীক্ষার্থী এমন নিখুঁতভাবে অংকটি তুলে রেখেছেন যা দেখলে যে কারোই সন্দেহ হবে। বিষয়টি সন্দেহ হবার পরে আমি প্রধান পরীক্ষককে অবহিত করি। তিনি চেয়ারম্যানের স্যারের কাছে খাতাগুলো নিয়ে যান। এর পরই বেরিয়ে আসে আসল রহস্য। ওই ১৮ শিক্ষার্থী পরীক্ষার হলে খাতায় কিছু না লিখে সাদা খাতা জমা দেন। প্রত্যেকটি খাতায় একটি লাল দাগ টানা ছিল। এরপর খাতা বোর্ডে জমা দেয়ার পর রেকর্ড সাপ্লাইয়ার খাতাগুলো বের করে কোন একজনকে দিয়ে ১৮ জনের খাতায় হুবহু উত্তরপত্রে করা অংকগুলো তুলে রাখেন। ওই ১৮ জন পরীক্ষার্থী বিভিন্ন কেন্দ্রে হলেও সব খাতা যায় পরীক্ষক মনিমোহনের কাছে। শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান এর পর ১৮ শিক্ষার্থীকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এক পযার্য়ে পরীক্ষার্থীরা উত্তরপত্র জালিয়াতির বিষয়টি স্বীকার করেণ। তারা জানান টাকার বিনিময়ে গোবিন্দ্র চন্দ্র পাল এ কাজটি করেছেন। এর পর ১৮ পরীক্ষার্থীর ফলাফল স্থগিত করা হয়। শুধু তাই নয় আগামী তিন বছর পযর্ন্ত তারা পরীক্ষায় বসতে পারবেনা।
বরিশাল নিউজ/এমএম হাসান