বরিশাল নিউজ ডেস্ক।। ‘এ জনমে আর দেখা হলো না। আমিও আজমীর শরীফ আসলাম, আর তুমিও চলে গেলে। এতো কষ্ট পাওয়ার থেকে মনে হয় এই ভালো ছিলো। আবার দেখা হবে হয়তো অন্য এক দুনিয়ায়, যেখানে থাকবে না কোনো রাজনীতি।’
ভারতের আজমীর শরীফ থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের মৃত্যুর খবর পেয়ে রোববার সকালে এভাবেই আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান বিদিশা এরশাদ।
এরিকের বাবা এরশাদের আরগ্যের আশায় বিদিশা ছুটে গিয়েছিলেন বিখ্যাত আউলিয়া হজরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতীর (রহ.) মাজারে। আজমীর শরীফে পৌঁছে এরশাদ যেন পুত্র এরিকের মাঝে ফিরে আসেন, সেই দোয়া করছিলেন। এ সময়ই বিদিশার কাছে সংবাদ যায় এরিকের বাবা আর নেই।
আজমীর শরীফ থেকে বিদিশা এরশাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি কোনো কথাই বলতে পারছিলেন না। কান্না করছিলেন। ‘আসছিলাম তার সুস্থ্যতার জন্য দোয়া করতে, কিন্তু তিনি তো আর নেই। আমার ছেলে এতিম হয়ে গেলো। এরিক কী নিয়ে বাঁচবে! এখনো আমার বিশ্বাস হচ্ছে না তিনি আর নেই। আমি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আল্লাহ পাকের কাছে তার জন্য দোয়া চাচ্ছি। আল্লাহ পাক যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন। একইসঙ্গে দেশবাসীকে বলবো, আপনারা সাবেক রাষ্ট্রপতির জন্য দোয়া করবেন। নেতাকর্মীদের বলবো, আপনারা ধৈর্য ধারণ করবেন, সাহস হারাবেন না। আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন।’ দ্রুত দেশে ফিরে আসছেন বলেও জানান বিদিশা।
এর আগে এরশাদের সুস্থ্যতার জন্য একাধিকবার আজমীর শরীফে গিয়ে তার জন্য দোয়া করেছিলেন বিদিশা।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সিএমএইচে চিকিৎসাধীন থাকাকালে সেখানে যেতে না পারলেও সার্বক্ষণিক খবর রেখেছেন বিদিশা। তার শারীরিক অবস্থাসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তার ফেসবুকে সময় অসময়ে স্ট্যাটাস দেন তিনি। পুত্র এরিক ও এরিকের বাবার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সাবেক রাষ্ট্রপতির স্ত্রী হিসেবে সে সময়ের বেশ কিছু স্মৃতিও শেয়ার করে ফেসবুকে দেন তিনি। লিখেছিলেন ‘আমাদের অসমাপ্ত প্রেম’ শিরোনামে। সেখানেও তিনি এরশাদের সুস্থতা ও তার স্বপ্নের কথাগুলো বলেছিলেন।
বিদিশা লেখেন, ‘৪০বছরের বেশি ব্যবধান আমাদের দুজনের বয়সের, কিন্তু একদিনও উনি আমাকে তা বুঝতে দেননি সেই পার্থক্য। আমাদের বিয়ের আগে তিনিনিজেই একটা হীরের আংটি কিনে আনেন। সেই দিন তিনি আমার কাছে থেকে কথা নেন মৃত্যু ছাড়া যেনো আমরা আলাদা না হই। আজও আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’
তিনি আরো লেখেন, খুব অল্প কয়টা বছর আমাদের প্রেম, সংসার হয়েছিলো । এতো ভালো বাসতে পারে কেউ? বিএনপি ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেলাম আমরা।
‘গতকাল থেকে ওনার বেশ জ্বর। হসপিটাল আইসিইউতে শুয়ে আছেন। রুগ্ন, ক্লান্ত শরীর। বয়সের ভারে ক্লান্ত আর চলতে চায় না জীবন। অন্য সবাই মেনে নিয়েছে বয়সের কাছে হার মানা এরশাদকে । ফিসফিস করে সবাই কবরের কথাও বলছে কানে আসছে আমার। কিন্ত আমি ও এরিক তো হার মানতে দিবো না তোমায়। আমরা তো রাজনীতির প্যাচ বুঝি না। এরিক জায়নামাজে পড়ে আছে কয়টা দিন। তুমি ছাড়া ও একা ভাত খেতে চায় না। শুধু তুমি ভালোভাবে ফিরে এসো। আমরা তোমাকে এই অবস্থা চাই। তুমি যে অবস্থায় আছো তেমনি চাই।’
‘আমরা তিনজন শুধু। তুমি, আমি ও আমদের এরিক। আর কেউ না । হসপিটাল থেকে ফিরে এসে বাড়িতে তুমি রেস্ট নেবে। এরিক গান শুনাবে তোমাকে, আমি বাজাবো বা তোমার প্রিয় ফিসফ্রাই রান্না করবো।’
‘সন্ধ্যায় আড্ডা দিবো। মা, বাবা ও ছেলে লুডু খেলবো। আমি নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে বাপ-ছেলেকে কাবাব খাওয়াতে নিয়ে যাবো খেলার বাজীতে হেরে গেলে। আজও কিন্তু আমি অপেক্ষায় থাকলাম নীল শাড়িটি ভাজ খুলবো, আশায় বুক বেঁধে আছি’- এরশাদের মৃত্যুর আগে তাকে উদ্দেশ্য করে লেখেন বিদিশা।
বরিশাল নিউজ/শাওন