তারিকুল ইসলাম।। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) আগামী আসরে অর্থাৎ ২০১৯-২০ মৌসুমে বড় পরিবর্তন আসছে। দেশের ক্রিকেটের জনপ্রিয় এ টুর্নামেন্টে আগামী আসরে খেলবে আটটি দল। এবছরের ছয় ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টে নতুন চক্র চালু হবে। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর নতুন চুক্তি থেকে শুরু করে ক্রিকেটারদের দলে নেওয়ার পদ্ধতি, ক্যাট্যাগরি এবং অন্য সবকিছুই নতুন করে সাজানোর ঘোষণা দিয়েছে বিপিএল কর্তৃপক্ষ।

বিসিবির এই ঘোষণা আশা দেখাচ্ছে গত দুই আসরে শুধু দর্শক হয়ে থাকা বরিশালকে। বিপিএলের প্রথম থেকে টানা চারটি আসরে খেলে শেষ দুই বিপিএল খেলতে পারেনি তারা।

বিপিএল-৭ এ বরিশাল নামে দল থাকার সম্ভাবনা কতটুকু?

আগামী আসরের জন্য ইতিমধ্যে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে চিটাগং ভাইকিংস। তারা সরে দাঁড়ানোয় নতুন দুটি দল খুঁজতে দরপত্র আহ্বান করেছে বিসিবি। এছাড়া চুক্তি অনুযায়ী ছয়টি আসর শেষ হয়ে যাওয়ায় আগামী আসরের আগেই বিসিবির সঙ্গে নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হতে হবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে। যা হবে আগামী চার বছরের জন্য। ফলে ক্রিকেটার থেকে শুরু করে দল সবকিছু নতুন চুক্তি অনুযায়ী হবে।
যেহেতু চিটাগং ভাইকিংস থাকছে না আর সিলেট ও রংপুরের সাথে বিপিএল কমিটির ‘ঝামেলা’ চলছেই। সেখানে নতুন দল হিসেবে বরিশাল আসলে অবাক হওয়ার কোনো কারন নেই।

এর আগে- আর্থিক শর্ত না মানায় বিপিএল ৫ থেকে বাদ দেয়া হয় বরিশালকে আর ২০১৮ সালে ষষ্ঠ বিপিএলে অংশগ্রহণের জন্য আর্থিক নিরাপত্তা দিতে না পারায় দলটিকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল ।

বিপিএলে দল বাদের ইতিহাস

২০১২ সালে বিপিএলের প্রথম আসরে অংশ নিয়েছিল ছয়টি দল। ২০১৩ সালে রংপুর রাইডার্স যুক্ত হলে দলের সংখ্যা দাঁড়ায় সাতটি। পরের আসরে খুলনা অংশগ্রহণ না করলেও সেবারই যুক্ত হয় নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। ২০১৬ সালে চতুর্থ আসরে খুলনা টাইটানস নামে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি হয়ে ফিরে আসে খুলনার দল। সেই আসরে আবার অংশগ্রহণ করেনি সিলেটের কোনো দল। ২০১৭ সালে সিলেট সিক্সার্স ফিরলেও বাদ যায় বরিশাল। গত বছরে ৭ দল খেললেও ছিল না বরিশাল।

বিপিএলে বরিশালের ইতিহাস

বিপিএলের প্রথম আসর অর্থাৎ ২০১২ সালে বরিশাল বানার্স নামে দল পায় বরিশাল। আলিফ এসএসএল স্পোর্টস হোল্ডিং লিমিটেড কোম্পানির মালিকানায় ছিল দলটি। বিপিএলের প্রথম আসরে রানার্সআপ হয় বরিশাল। সেই দলটির অধিনায়ক ছিলেন ব্রাড হজ আর কোচ ছিলেন সারওয়ার ইমরান।

২০১৩ সালে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় আসরে ষষ্ঠ হয়ে গ্রুপ পর্বেই বাদ পড়ে বরিশাল বার্নাস। আগেই ঘোষণা ছিল ওই বছরের পর আর সে নামে থাকবে বিপিএলে বরিশালের দল। ২০১৪ সালে বিপিএলের আসর বসেনি।

টুর্নামেন্টের তৃতীয় আসরে ২০১৫ সালে নতুন নাম বরিশাল বুলস হয়ে বিপিএলে অংশ নেয় বরিশাল। সেই দলটির সত্বাধীকারী ছিলো অ্যক্সিওম টেকনোলজিস । নতুন নামে ফিরে মাহমুদুল্লাহর নেতৃত্বে চমক দেখায় বরিশাল। আবারো একবার বিপিএল ফাইনাল খেলে দলটি। যদিও এবার কুমিল্লার কাছে ফাইনালে রুদ্ধশ্বাস হার। এ দলটির কোচ ছিলেন গ্রাহাম ফোর্ড।

বরিশাল নামে বিপিএলে সর্বশেষ কোনো দল খেলে ২০১৬ সালে, বরিশাল বুলস। বাংলাদেশে জাতীয় দলের সেসময়ের ওয়ানডে ও টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকে অধিনায়ক করা হয়। অষ্ট্রেলিয়ান ডেভ হোয়াটমোরকে দেওয়া হয় প্রধান কোচের দায়িত্ব। এ আসরে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থেকে বাদ পড়ে বরিশাল।

এর পরের দুই আসর খেলতে পারেনি বরিশাল।
২০১৯-২০ মৌসুমে আবারো বিপিএলে দেখা যেতে পারে বরিশাল দলকে।

বরিশাল নিউজ/শাওন