মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টির মঞ্চে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান

মোহাম্মদ নবির বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে লড়াইয়ের পুঁজি গড়েছে আফগানিস্তান। মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের পরও ১৬৫ রানের লক্ষ্য পেয়েছে বাংলাদেশ।

৫৪ বলে ৭ ছক্কা ও তিন চারে নবির অপরাজিত ৮৪ রানের ওপর ভর করে ৬ উইকেটে ১৬৪ রান করেছে আফগানিস্তান। নবির ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শেষ ১০ ওভারে ১০৪ রান সংগ্রহ করে সফরকারীরা। প্রথম ১০ ওভারে তারা তুলেছিল ৬০।

৩৩ রানে ৪ উইকেট নেন সাইফ। তার আগের সেরা ছিল ২/৫৩। সাকিব ২ উইকেট নেন ১৮ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

আফগানিস্তান: ২০ ওভারে ১৬৪/৬ (রহমানউল্লাহ ০, জাজাই ১, নাজিব ১১, আসগর ৪০, নাজিবউল্লাহ ৫, নবি ৮৪*, নাইব ০, জানাত ৫*; সাইফ ৪-০-৩৩-৪, সাকিব ৪-১-১৮-২, মুস্তাফিজ ৪-০-২৫-০, তাইজুল ৪-০-৩২-০, সৌম্য ২-০-৩১-০, মোসাদ্দেক ১-০-১২-০, মাহমুদউল্লাহ ১-০-৩-০)

ছক্কায় নবির ফিফটি

দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিচ্ছেন মোহাম্মদ নবি। সৌম্য সরকারকে ছক্কা হাঁকিয়ে ৪১ বলে ফিফটি তুলে নিয়েছেন এই অলরাউন্ডার।

সৌম্যর সেই ওভারে আরও একটি ছক্কা ও দুটি চার হাঁকান নবি। ওভার থেকে আসে ২২ রান। ইনিংসে এটাই সবচেয়ে খরুচে ওভার।

১৮ ওভারে আফগানিস্তানের স্কোর ১৪৪/৬। নবি ৬৮ ও করিম জানাত ২ রানে ব্যাট করছেন।

সাইফের জোড়া আঘাত

জুটি ভাঙার পর সেই ওভারে আবার আঘাত হানলেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। গুলবাদিন নাইবকে বোল্ড করে নিলেন নিজের চতুর্থ উইকেট।

লেংথ বলের লাইন মিস করেন নাইব। এলোমেলো হয়ে যায় স্টাম্পস। দুই বলে শূন্য রানে ফিরেন এই অলরাউন্ডার।

১৭ ওভারে আফগানিস্তানের স্কোর ১২২/৬। ক্রিজে মোহাম্মদ নবির সঙ্গী করিম জানাত।

ফিরেই জুটি ভাঙলেন সাইফ

বোলিংয়ে ফিরেই দ্রুত এগোনো জুটি ভেঙেছেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। দারুণ এক স্লোয়ারে ফিরিয়ে দিয়েছেন আসগর আফগানকে।

স্লোয়ার বুঝতে পারেননি আসগর। লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কায় ওড়াতে চেয়েছিলেন। বেশ উপরে ওঠে যাওয়া ক্যাচ এগিয়ে মুঠোয় জমান সাব্বির রহমান। ভাঙে ৭৯ রানের জুটি।

৩৬ বলে দুই ছক্কা ও তিন চারে ৪০ রান করেন আসগর।

তাইজুলের নো বলে বাঁচলেন আসগর

বিপজ্জনক হয়ে ওঠা জুটি প্রায় ভেঙে ফেলেছিলেন তাইজুল ইসলাম। তবে তার নো বলের জন্য বেঁচে যান আসগর আফগান। সে সময় ৩১ রানে ব্যাট করছিলেন তিনি।

পঞ্চদশ ওভারের প্রথম বলে স্লগ করেছিলেন আসগর। টাইমিং করতে পারেননি। সীমানায় ক্যাচ মুঠোয় জমান লিটন দাস। রিপ্লেতে দেখা যায় বলটি ছিল ‘নো’।

সেই ওভারে একশ স্পর্শ করে আফগানিস্তানের সংগ্রহ। নিজের প্রথম ৩ ওভারে ১৬ রান দেওয়া তাইজুল শেষ ওভারে দেন ১৬ রান।

নবি-আসগরের পঞ্চাশ রানের জুটি

দ্রুত ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া আফগানিস্তানকে টানছেন আসগর আফগান ও মোহাম্মদ নবি। পঞ্চম উইকেটে উপহার দিয়েছেন পঞ্চাশ রানের জুটি।

৪৩ বলে ইনিংসে প্রথম অর্ধশত রানের জুটি পায় আফগানিস্তান। এর শেষ ৩০ রান আসে মাত্র ১৮ বলে।

১৩ ওভারে আফগানিস্তানের স্কোর ৯০/০। দুই ব্যাটসম্যানই ২৯ রানে ব্যাট করছেন।

পাওয়ার প্লেতে আফগানদের ৪ উইকেট

লক্ষ্যটা নাগালে রাখতে পাওয়ার প্লেতে উইকেট চেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। স্বাগতিকরা প্রথম ৬ ওভারে ফিরিয়ে দিয়েছে আফগানদের চার ব্যাটসম্যানকে।

৬ ওভারে আফগানিস্তানের স্কোর ৪১/৪। আসগর আফগান ১০ ও মোহাম্মদ নবি ১ রানে ব্যাট করছেন।

অতিরিক্ত থেকে ১৩ রান পেয়েছে সফরকারীরা। সাকিবের বলে বাই থেকে এসেছে দুটি বাউন্ডারি।

সাকিব ও সাইফ নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। তেড়েফুঁড়ে মারার চেষ্টায় ছিলেন ব্যাটসম্যানরা। তবে দারুণ লাইন, লেংথে বোলিং করে তাদের ডানা মেলতে দেননি বাংলাদেশের বোলাররা।

সাকিবের দ্বিতীয় শিকার নাজিবউল্লাহ

আফগানদের জুটি গড়ে তোলার চেষ্টা ভেস্তে দিলেন সাকিব আল হাসান। ফিরিয়ে দিলেন আগের ম্যাচে খুনে ব্যাটিংয়ে ফিফটি করা নাজিবউল্লাহ জাদরানকে।

বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানকে আর্ম বল করে যাচ্ছিলেন সাকিব। আগের বলে হজম করেছিলেন চার। তবুও সরেননি পরিকল্পনা থেকে। অমনই একটি আর্ম বল ওড়ানোর চেষ্টায় মিড অফে সৌম্য সরকারের হাতে ধরা পড়েন নাজিবউল্লাহ।

৬ ওভারে আফগানিস্তানের স্কোর ৪১/৪। ক্রিজে আসগর আফগানের সঙ্গী মোহাম্মদ নবি।

ছক্কার পর অক্কা নাজিব

আগের বলে ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন নাজিব তারাকাই। তবে শেষ হাসি হাসলেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। পরের বলেই আফগান টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দিলেন এই পেসার।

ক্রিজে যাওয়ার পর থেকে শট খেলছিলেন নাজিব। সেভাবে টাইমিং করতে পারছিলেন না। এরই মধ্যে হাঁকান বিশাল এক ছক্কা। পরের বলে আবার একই চেষ্টা করতে গিয়ে ঠিক মতো খেলতে পারেননি। মিডউইকেট সীমানায় ক্যাচ মুঠোয় জমান সাব্বির রহমান।

১২ বলে এক ছক্কায় ১১ রান করেন নাজিব। ৩ ওভারে আফগানিস্তানের স্কোর ১৯/৩। ক্রিজে আসগর আফগানের সঙ্গী নাজিবউল্লাহ জাদরান।

প্রথম ওভারে উইকেট পেলেন সাকিবও

একটুর জন্য নিজের প্রথম বলে উইকেট পাননি সাকিব আল হাসান। তবে সাফল্যের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি বাঁহাতি এই স্পিনারকে। সেই ওভারেই হজরতউল্লাহ জাজাইকে ফিরিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

সাকিবকে স্লগ করে ছক্কায় ওড়াতে চেয়েছিলেন জাজাই। টাইমিং করতে পারেননি। মিডউইকেটে বেশ কিছুটা এগিয়ে অনেক উপরে উঠে যাওয়া ক্যাচ মুঠোয় জমান লিটন দাস।

২ বলে ১ রান করেন জাজাই। ২ ওভারে আফগানিস্তানের স্কোর ১০/২। ক্রিজে নাজিব তারাকাইয়ের সঙ্গী আসগর আফগান।

প্রথম বলেই সাইফের আঘাত

দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বাংলাদেশকে দারুণ শুরু এনে দিলেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। বোল্ড করে ফিরিয়ে দিলেন আগের ম্যাচে ঝড় তোলা রহমানউল্লাহ গুরবাজকে।

মিডল স্টাম্পে পড়া বল পা বাড়িয়ে খেলতে চেয়েছিলেন আফগান ওপেনার। সুইং করে বেরিয়ে যাওয়া বলের নাগাল পাননি। ব্যাটের কানা এড়িয়ে আঘাত হানে স্টাম্পে।

গোল্ডেন ডাকের স্বাদ পান রহমানউল্লাহ। ১ ওভারে আফগানিস্তানের স্কোর ৫/১। ক্রিজে হজরতউল্লাহ জাজাইয়ের সঙ্গী নাজিব তারাকাই।

আফগানিস্তান একাদশেও নেই পরিবর্তন

বাংলাদেশের মতো আফগানিস্তানও খেলছে একই একাদশ নিয়ে। জিম্বাবুয়েকে হারানো দলটির ওপরই আস্থা রেখেছে দলটি।

আফগানিস্তান: রহমানউল্লাহ গুরবাজ, হজরতউল্লাহ জাজাই, নাজিব তারাকাই, আসগর আফগান, নাজিবউল্লাহ জাদরান, মোহাম্মদ নবি, করিম জানাত, গুলবাদিন নাইব, রশিদ খান, ফরিদ আহমেদ, মুজিব উর রহমান।

একই একাদশ নিয়ে বাংলাদেশ

ইয়াসিন আরফাতের চোটে শেষ মুহূর্তে আবু হায়দারকে দলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে একাদশে জায়গা হয়নি বাঁহাতি এই পেসারের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলা এক্দশে কোনো পরিবর্তন আনেনি স্বাগতিকরা।

বাংলাদেশ: সাকিব আল হাসান, সৌম্য সরকার, লিটস দাস, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, আফিফ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন, সাব্বির রহমান, তাইজুল ইসলাম, সাইফ উদ্দিন, মুস্তাফিজুর রহমান।
টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

টস জিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিং নিয়েছেন আফগানিস্তান অধিনায়ক রশিদ খান। সাকিব আল হাসান জানান, টস জিতলে ব্যাটিং নিতেন তিনিও। তবে আগে বোলিংয়েও আপত্তি নেই বাংলাদেশ অধিনায়কের। লক্ষ্যটা নাগালে রাখতে প্রথম ছয় ওভারে বোলারদের কাছ থেকে উইকেট চান তিনি।