পহেলা জুলাই ছাত্রাবাস থেকে নিখোঁজ হয় মাহাথির

পহেলা জুলাই ছাত্রাবাস থেকে নিখোঁজ হয় মাহাথির

বরিশাল নিউজ।। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (এটিআই) ছাত্রাবাসা থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে তুলে নেয়া ছাত্র মাহাথির মোহাম্মদ বিন ফরিদের (১৭) সন্ধান মিলেছে। সে বরগুনা জেলা ডিবি’র হেফাজতে ছিলো বলে জানিয়েছেন বরিশাল মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মো. মাহাবুব আলম। মাহাথিরকে তার বাবার জিম্মায় দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সন্তানকে ফিরে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কিভাবে কোথা থেকে ফিরে পেয়েছেন সে বিষয়টি জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন মাহাথিরের বাবা বরগুনা কৃষি অফিসের ড্রাইভার মো. ফরিদ উদ্দিন।

মাহাথির গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠি এলাকার বাসিন্দা এবং বাবুগঞ্জের বরিশাল কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (এটিআই) এর দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র। আজ বুধবার এটিআইতে শুরু হওয়া পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেছে বলে তার বাবা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, গত ১লা জুলাই গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে ৭/৮ জন লোক ছাত্রাবাসের ২০৬ নম্বর কক্ষ থেকে মাহাথিরকে বরগুনায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত নয়ন বন্ডের ০০৭ গ্রুপের সদস্য দাবী করে ধরে নিয়ে যায়।

এই ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলো মাহাথির। অনুমতি ছাড়া আটক করায় বিষয়টি নিয়ে ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. ইদ্রিস ও মাহাথিরের বাবা বাদী হয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন এয়ারপোর্ট থানায় পৃথক দুটি সাধারণ ডায়েরী করেন। এই ঘটনার নয় দিন পরে মঙ্গলবার মাহাথিরকে খুঁজে পায় তার পরিবার।

মাহাথিরের বাবা ফরিদ উদ্দিন বলেন, ”আমি আমার ছেলেকে ফেরত পেয়েছি এটাই বড় বিষয়। এজন্য আমি দুপুরে থানায় করা ডায়েরী তুলে নিয়েছি। তবে কোথা থেকে কিভাবে পেয়েছি সে বিষয়ে সাংবাদিকদের জানার প্রয়োজন নেই।”

তিনি বলেন, ”আমার ছেলেকে ধরে নেয়া হয়েছিলো। সাংবাদিকরা বিষয়টি দেশবাসির কাছে তুলে ধরেছে। এজন্য আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।”

এদিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, ”যতটুকু জানতে পেরেছি মাহাথির বরগুনা জেলা ডিবি’র কাছে ছিলো। রিফাত হত্যার পরিকল্পনার সাথে জড়িত থাকা সন্দেহে তাকে জিজ্ঞাসবাদের জন্য নেয়া হয়।” পরে মাহাথিরকে তার বাবার জিম্মায় দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি।

অবশ্য বরগুনা জেলা ডিবি’র পরিদর্শক হারুন অর রশিদ বলেন, ”মাহাথির আমাদের কাছে ছিলো না। আর থাকলেও সেটা আমার জানা নেই। উর্ধ্বতন কোন কর্মকর্তা মাহাথিরকে এনে থাকলে সেটা আমি বলতে পারব না। তবে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ বলে থাকলে তারাই বলতে পারবে যে মাহাথির কার কাছে ছিলো।”

বরিশাল নিউজ/শামীম