মিন্নির শ্বশুর নিহত রিফাত শরীফের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ।

বরগুনা নিউজ।। বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় ৭৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১২ পুলিশ সদস্য, ৪ চিকিৎসক ও বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজীর নাম রয়েছে।
মামলার চার্জশিট থেকে জানা যায়, এতে অভিযুক্ত ২৪ জন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, বরগুনা সদর থানার ওসি-তদন্ত মো. হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের জানান, সততা, নিরপেক্ষতার সঙ্গে এ হত্যা মামলার তদন্ত করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী
 মামলার ১ নম্বর সাক্ষী নিহত রিফাতের বাবা মো. আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ। হেলাল সিকদারকে করা হয়েছে ২৬ নম্বর সাক্ষী। ৩০ ও ৩৫ নম্বর সাক্ষী হলেন- নয়ন বন্ড ও মিন্নির বিয়ের কাজী মো. আনিচুর রহমান ও বিয়েতে মিন্নির উকিল বাবা মো. রাইয়ানুল ইসলাম শাওন।

প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্ত
মামলার এজাহার ও তদন্তে অভিযুক্তদের বয়সের বিবেচনায় দু’ভাগে ভাগ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তদের নিয়ে গঠিত চার্জশিটে অভিযুক্তের সংখ্যা ১০। অন্যদিকে অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তদের নিয়ে গঠিত চার্জশিটে অভিযুক্ত ১৪ জন।

পুরানো মামলা কতো
২৪ জনের মধ্যে ৮ জনের বিরুদ্ধে মাদক, হামলা ও হত্যাচেষ্টার মামলাসহ মোট ১৬টি মামলা রয়েছে।

প্রাপ্তবয়স্কদের চার্জশিটে ১ নম্বর অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজীর বিরুদ্ধে মাদক, মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বরগুনা সদর থানায় মোট ৪টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় বিভিন্ন সময় তিনি গ্রেফতারও হন। চার্জশিটের ৩ ও ৪ নম্বর অভিযুক্ত মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত ও মো. রেজোয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়ের বিরুদ্ধেও মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বরগুনা সদর থানায় দুটি মামলা রয়েছে।

এছাড়া এ চার্জশিটে থাকাদের মধ্যে দুটি করে মামলা রয়েছে ৬ ও ৯ নম্বর অভিযুক্ত মো. মুছা ও মো. সাগরের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে মুছার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা দুটি মাদকের, এবং সাগরের বিরুদ্ধে দুই মামলার মধ্যে একটি নারী নির্যাতন ও অপরটি হত্যাচেষ্টার।

কিশোরদের নিয়ে গঠিত চার্জশিটের ১ নম্বর অভিযুক্ত মো. রাশেদুল হাসান ওরফে রিশান ফরাজী ও মো. তানভীর হোসেনের বিরুদ্ধেও একটি করে হত্যাচেষ্টা ও মারধরের মামলা রয়েছে। এছাড়া মো. ওয়ালিউল্লাহ অলি নামে ৪ নম্বর কিশোর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একটি মাদক ও একটি হত্যাচেষ্টার মামলা রয়েছে।

আলামত
এদিকে এ মামলার আলামত হিসেবে তিনটি পেনড্রাইভ, একটি ডিভিডি, রিফাতের ওপর হামলার স্থানে রক্তমাখা রাস্তার পিচের অংশবিশেষ, একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা, একটি রক্তমাখা অফহোয়াইট শার্ট, একটি স্টিলের চামচ, একটি কালো রঙের নারীদের জামা, একটি চিরুনি, মিন্নির বাঁধাই করা একটি ছবি, খোদাই করে ‘নয়ন+মিন্নি’ লেখা একটি শামুক, সিম ও মেমোরিকার্ডসহ বিভিন্ন ব্রান্ডের ছয়টি মোবাইল, রক্তমাখা কালো রংয়ের একটি জিন্সের প্যান্ট ও একটি রামদা আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে মামলার চার্জশিট থেকে জানা যায়।

এসবের মধ্যে পেনড্রাইভ ও ডিভিডিতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ বন্ড ০০৭ গ্রুপের সব তথ্য দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একটি পেনড্রাইভে বিভিন্ন স্ক্রিনশটসহ নয়ন বন্ডের জন্মদিনে মিন্নির উপস্থিত থাকার ভিডিওচিত্রও দেওয়া হয়েছে।

পেনড্রাইভ ও ডিভিডিতে থাকা সব ভিডিও ফুটেজ ও স্ক্রিনশট বিষয়ে পুলিশের সাইবার ফরেনসিক বিভাগের বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছে। এগুলোতে কোনো প্রকার এডিটিং করা হয়নি, এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের মতামতও চার্জশিটে যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া জব্দ করা ছয়টি মোবাইলের মধ্যে চারটি মোবাইলের বিষয়েও নেওয়া হয়েছে বিশেষজ্ঞদের মতামত।

মামলার আলামত হিসেবে দেখানো রিকশাটি আহত রিফাত শরীফকে নিয়ে দুর্ঘটনাস্থল থেকে হাসপাতালে যায়। তাই রিকশাটি মালিকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাকি সব আলামত আদালতে দাখিল করা হয়।
বরিশাল নিউজ/এমএম হাসান