প্রতীকী ছবি।

বরগুনা নিউজ।। বরগুনায় সৎ ভাইকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার মামলায় বড় ভাই ইমরানকে (১৪) দশ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।মৃতদেহ গোপন করার অভিযোগে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বরগুনার শিশু আদালতের বিচারক ও জেলা জজ মো. হাফিজুর রহমান সোমবার (০৪ নভেম্বর) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় আসামি ইমরান আদালতে উপস্থিত ছিল।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির বাবা সোবহান সিকদারের দুই স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি এলাকায় ও দ্বিতীয় স্ত্রী দেশান্তরকাঠি এলাকায় বসবাস করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী বিউটি বেগমের সাত বছরের শিশু ছেলে জাবেদ স্থানীয় ব্র্যাক স্কুলে প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল। বিউটির স্বামী সোবহান সিকদার ঢাকা থাকতেন। ধান কাটার মৌসুম হওয়ায় বিউটিকে তার স্বামী ফোন দিয়ে বিবিচিনিতে সতিনের বাড়িতে যেতে বলেন। ২০১৮ সালের ১৮ জুন বিকালে বিউটি তার সন্তানকে নিয়ে ওই বাড়িতে যান। পরের দিন ১৯ জুন বিকাল ৪টার দিকে ইমরান সিকদার তার ছোট ভাইকে সাইকেলে করে ঘুরতে নিয়ে যায়। সন্ধ্যার পরও ইমরান ও জাবেদ বাড়িতে ফিরে না আসায় বিউটি বেগম তাদের খুঁজতে বের হয়। ওই সময় বিউটি পাশের বাড়ির কলাবাগানে ইমরানকে দেখতে পায়। ইমরান তার সৎ মাকে দেখে দৌড়ে পালানোর সময় তাকে ধরে জাবেদ কোথায় জানতে চান বিউটি। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে তার দেখানো জায়গা আবুল মল্লিকের কলাবাগানের একটি পুকুরের কচুরীপানার নীচ থেকে জাবেদের লাশ উঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে বেতাগী থানায় মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে ২০১৯ এর ২৩ মার্চ আসামি ইমরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি জঘন্য। আসামি শিশু হওয়ায় এ শাস্তি হয়েছে। শিশু আইনে ১০ বছরের বেশি শাস্তি দেওয়ার বিধান নেই। যার কারণে আসামিকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারেননি আদালত। রায় ঘোষণার পর আসামিকে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আসামি পক্ষের আইনজীবী বিমান কান্তি গুহ বলেন,‘আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট নই। আমার মক্কেলের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা হাইকোর্টে আপিল করবো।’
বরিশাল নিউজ/বরগুনা