মিলন কর্মকার রাজু।। সোমবার শেষ বিকালে মাঠে খেলাধুলা শেষে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও শিশুরা যখন বাসায় ফিরছিলো। হঠাৎ আকাশ থেকে মাটিতে এসে পড়লো বিশাল এক বাজ পাখি। পাখিটি উড়তে না পারায় মাঠে থাকা কুকুর সেটিকে ধরার জন্য দৌড় ঝাপ শুরু করলে স্থানীয় এক গ্যারেজ মেকানিক পাখিটিকে কৌশলে ধরে রক্ষা করেন।
ধূসর রংয়ের এ পাখিটির ওজন দশ কেজির বেশি। পাখিটির পাখা ও ডান পায়ে কিছুটা আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ কারণে পাখিটি উড়তে পারছে না জানালেন কলাপাড়া প্রানী সম্পদ বিভাগের চিকিৎসকরা। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতেই পাখিটি কলাপাড়া বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরের পশু হাসপাতাল মাঠে সোমবার শেষ বিকালে এ বাজ পাখিটি হঠাৎ উড়ে এসে বসে। কলাপাড়াসহ উপকূলীয় এলাকায় এ ধরণের পাখি দেখা না যাওয়ায় বিশাল এ পাখিটি দেখে অনেকে ভীত হয়ে পড়ে। পাখিটির ধারালো নখ ও প্রায় দেড় ইঞ্চি লম্বা ঠোটের কারনে কেউই পাখিটির কাছে ভীড়তে সাহস পাচ্ছিলেন না। দুটি পাখা মেলে ধরায় পাখিটির পাখার দৈর্ঘ্য প্রায় আট ফুট ও উচ্চতা প্রায় আড়াই ফুট।

জানা যায়, বাজ পাখি বা ফ্যালকন একিপিট্রিফর্মিস বর্গের একিপিট্রিডি গোত্রের এক ধরণের দিবাচর পাখি। চোখা পাখা, চৌকো লেজ, খাঁজ কাটা ঠোট এদের বৈশিষ্ট্য। পৃথিবীতে প্রায় ৩৮ প্রজাতির বাজ পাখি বা ফ্যালকন প্রজাতি রয়েছে। বাংলাদেশে নয় প্রজাতির মধ্যে পাঁচ প্রজাতি পরিযায়ী।

এটি এক ধরণের শিকারী পাখি। বিশেষ করে প্রাচীন চীন, পারশ্য ও মিশরের অধিবাসীরা এ বাজপাখি পুষতো অণ্য ছোট পাখি শিকারের জন্য। এ বাজপাখি ঘন্টায় প্রায় ১৮০ কিঃমিঃ গতিবেগে অনেক উপর থেকে ছো মেরে শিকার করে। এ ধরণের পাখি সাধারণত ঘন বনাঞ্চল ও সমুদ্রের তীরে , পাহাড়ে বসবাস করে। কিন্তু কী কারনে, কোথা থেকে পাখিটি লোকালয়ে এসে পড়লো তা বলতে পারছে না বন বিভাগের কর্মীরা।

পাখিটি উদ্ধার করা গ্যারেজ মেকানিক মো. নাদিম বরিশাল নিউজকে জানান, কুকুর পাখিটিকে মেরে ফেলতে পারে এ কারনে ঝুঁকি নিয়ে মাঠ থেকে পাখিটিকে ধরে নিজের গ্যারেজে প্রথমে রাখেন খোলা ভাবেই। কিন্তু সে উড়তে পারছিলো না। তার পায়ের নখের আঘাতে কয়েকজন আহত হয়েছে। মুরগীর বাচ্চা পাখিটিকে খেতে দিলেও কিছুই খায়নি। রাতে পাখিটিকে দেখতে অনেকেই নাদিমের গ্যারেজে ভীড় করে।

কলাপাড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বরিশাল নিউজকে জানান, সোমবার রাতে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পাখিটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগের অফিসে নিয়ে আসা হয়েছে। রাতে পাখিটির পায়ের ক্ষতস্থান চিকিৎসা করানো হয়েছে। এটি বাজ বা ঈগল প্রজাতির পাখি। তবে কলাপাড়ার বনাঞ্চলে এ ধরণের পাখি দেখা যায় না।

তাঁর ধারণা, হয়তো দূরে কোথাও ঝড়ে বাতাসের গতিবেগ পরিবর্তন হওয়ায় পাখিটি উড়তে উড়তে ক্লান্ত হয়ে এখানে চলে এসেছে। পাখিটি উড়তে না পারার কারনে ছেড়ে দেয়া যাচ্ছে না।
তিনি আরও জানালেন, ঢাকায় ওয়াইল্ড লাইফ অফিসে তারা এ বিষয়ে অবহিত করেছেন। তাদের কাছে ছবিও পাঠিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার পর কী করবেন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন। মঙ্গলবার সকালে পাখিটিকে ধরে মাছ খাওয়ানো হয়েছে। তবে পাখিটিকে পুরোপুরি সুস্থ্য মনে হচ্ছে না।

বরিশাল নিউজ/মিলন