বরিশাল নিউজ ॥ পৌরনীতি বিষয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগদানের পর তথ্য গোপন রেখে প্রথমে ভারপ্রাপ্ত ও পরে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ নিয়েছেন বরিশালের মুলাদী উপজেলার পূর্ব হোসনাবাদ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে বিষয়ভিত্তিক ১১জন প্রভাষক নিয়োগ করে বিপুল পরিমান অর্থ বাণিজ্য, কলেজ উন্নয়নের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত চাল, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নগদ অর্থ, জেলা ও উপজেলা পরিষদের বরাদ্দকৃত নগদ অর্থ, কলেজের আয়ের বিপুল পরিমান টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।

হোসনাবাদ ডিগ্রী কলেজ

হোসনাবাদ ডিগ্রী কলেজ

এ ব্যাপারে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা অধ্যক্ষের ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের সঠিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সস্প্রতি সময়ে উল্লেখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের সমন্ময়ে গঠিত তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (কলেজ-৪) নাজমুল হক খান স্বাক্ষগরিত একপত্রে তদন্ত রির্পোটের ভিত্তিতে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আবিদুর রহমানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসকের কাছে পত্র প্রেরণ করেন। তার পরেও রহস্যজনক কারণে এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন বিএনপি দলীয় সাবেক সাংসদ মোশাররফ হোসেন মঙ্গুর ভাইয়ের ছেলে অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান। ফলে স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তদন্ত কমিটির রির্পোট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালের ৯ আগস্ট কলেজের সাংগঠনিক সভায় আবিদুর রহমানকে পূর্ব হোসনাবাদ কলেজের পৌরনীতি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। একই বছরের ৩১ জুলাই রহস্যজনক কারণে পুনারায় আবিদুর রহমানকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিএনপি দলীয় স্থানীয় প্রভাবশালী সাবেক সাংসদের ভাইয়ের ছেলে হওয়ার সুবাদে ওই বছরেই আবিদুর রহমানকে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। সেক্ষেত্রে কোথাও আবিদুর রহমানকে পৌরনীতি আবার কোথাও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্রে আরও জানা গেছে, মহাজোট সরকারের সময় কলেজটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর কৌশলে আবিদুর রহমান অধ্যক্ষ বনে চলে যান। এজন্য তিনি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি কিংবা নিয়োগ বোর্ড এবং ফলাফলের সিট পর্যন্ত শিক্ষা অধিদপ্তরে দাখিল করেননি। বিষয়টি সর্বত্র ছড়িয়ে পরলে স্থানীয় সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দরা অধ্যক্ষর দুর্নীতি ও অনিয়মের ফিরিস্তি তুলে ধরে শিক্ষা মন্ত্রীর বরাবরে লিখিতভাবে আবেদন করেন।
পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের রির্পোটের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে পৃথক চিঠিতে অধ্যক্ষ আবিদুর রহমানের নিয়োগ বৈধভাবে হয়নি মর্মে উল্লেখ্য করে কলেজ গর্ভনিং বডির সভাপতিকে অবহিত করা হয়। তৎকালীন সভাপতি ওই চিঠি পেয়েও অধ্যক্ষর নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে কোন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসককে তদন্তপূবর্ক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়। তদন্ত রির্পোটে কথিত অধ্যক্ষ আবিদুর রহমানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া সত্ত্বে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
কলেজের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সব দপ্তর ম্যানেজ করে ভুয়া কাগজ বানিয়ে এখনও অধ্যক্ষ পদে বহাল থেকে পর্যায়ক্রমে বিষয় ভিত্তিক ১১জন প্রভাষক নিয়োগ করে বিপুল পরিমান অর্থ বাণিজ্য, কলেজ উন্নয়নের জন্য সরকারীভাবে বরাদ্দকৃত নগদ অর্থ ও কলেজের আয়ের বিপুল পরিমান টাকা আত্মসাত করেছেন।
সকল অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান বলেন, কলেজের কয়েকজন শিক্ষক স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তির যোগসাজসে আমার নামে মিথ্যে অভিযোগ ছড়াচ্ছে। কলেজ গর্ভনিং বর্ডির সভাপতি এ্যাডভোকেট আব্দুর বারি বলেন, অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে সে বিষয়ে খতিয়ে দেখে কলেজ গর্ভনিং বর্ডির সদস্যদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরিশাল নিউজ/শামীম