মাঠ দিবসে বিনা ধান-১৯-বরিশাল নিউজ


মাঠ দিবসে বিনা ধান-১৯-বরিশাল নিউজ

বরিশাল নিউজ।। বিনা ধান-১৯ বীজ বপন করে মাত্র একশ’ দিনেরও কম সময়ে ফলন পেয়েছেন জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের চাষিরা। একর প্রতি ফলন হয়েছে প্রায় ৪০ মন।
বাংলাদেশ পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল এই বিনা ধান সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ধান কর্তন ও কৃষকদের নিয়ে বৃহস্পতিবার মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে চাঁদপাশা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে ।
চাষি আব্দুল জলিল বলেন, তারা ১২ জন মিলে আট একর জমিতে বিনা ধান-১৯ (আউশ) বীজ বপন করেছেন। ফলন ভালো হয়েছে। সবাই মিলে করলে আরো ভালো হবে বলেন তিনি।
কৃষক জাকির হোসেন মোল্লা বলেন, আগে আমার ২৮ শতক জমিতে ১০ থেকে ১২ মণ আউশ ধান পাওয়া যেত। এছাড়া বাকি সময় জমি অনাবাদিই পরে থাকতো। এখন বিনা ধান-১৯ চাষ করার পাশাপাশি আউশ, মশুর ও আমন ফসল ফলাতে পারছি। ফলে এখন আর আমার জমি অনাবাদি পরে থাকেনা।

দাম না পাইলে লাভ কী ?
কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, “বিনা ধানের ফলন ভালো ,ধানও ভালো। কিন্তু দাম না পাইলে লাভ কী ?” তিনি জানান ধানের দামে শ্রমিকও পাওয়া যায় না।

ধান কিনবে বিনা

বাংলাদেশ পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.বাবুল আক্তার জানান,বিনা ধান ১৯ সম্প্রসারণের জন্য আউশ মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে ২৪০টি প্রদর্শনী করা হয়। এ সময় কৃষকদের মাঝে তিন হাজার কেজি বীজ তারা বিনা মূল্যে দিয়েছেন। তাদের ধারণা উচ্চফলনশীল এই জাত থেকে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ন হবে। ধানের কম দাম প্রসংগে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.বাবুল আক্তার জানান,তারা এবার বীজ হিসাবে সব ধান কিনে নেবেন। আগামী বছর আবার ওই বীজ বিনা মূল্যে কৃষকদের বিতরণ করা হবে বলেন তিনি।

সরকারের সেরকম কোনো গুদাম নাই

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সাইনুর আজম খান বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। আমাদের দেশে তিনশ’ মেট্রিক টন চালের প্রয়োজন থাকলেও এবার চারশ’ মেট্রিক টন চাল উৎপাদিত হয়েছে। অন্যদিকে এত পরিমাণ চাল রাখার মতো সরকারের সেরকম কোনো গুদাম না থাকার কারণে কৃষকদের কাছ থেকে সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণে ধান ক্রয় করতে পারেনি। কারণ ধান ক্রয় করে সরকারের সেই ধান রাখার কোনো গুদাম নেই।
কৃষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের জমিতে ভালো ফসল পেতে হলে ভালো মানের বীজ রোপন করতে হবে।

সভার শুরুতে কৃষি বিভাগ থেকে পাওয়া বিনা ধানের বীজ থেকে চাষিদের যে বাম্পার ফলন হয়েছে তা কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কর্তন ও মাড়াই করে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

চাঁদপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল বীজ প্রত্যায়ন অ্যাজেন্সি (ডিএসসিও) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আক্তার প্রমুখ।

আরো বক্তব্য রাখেন , ফলজ গবেষণা সম্প্রসারণ বিভাগের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এমদাদুল হক, কৃষক আমিনুল ইসলাম, আব্দুল জলিল প্রমুখ।
বরিশাল নিউজ/এমএম হাসান