বরিশাল নিউজ।। স্কুল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা যে পরিমান টাকা জমিয়েছে তা দিয়ে চারটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা যায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংক বরিশাল শাখার নির্বাহী পরিচালক মনোজ কুমার বৈরাগী। আর পকেটমানি দেশের অর্থনীতিতে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. হানিফ। ব্যয়ের ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের সংযমী হতে পরামর্শ দিয়েছেন জেলা শিক্ষা অফিসার বিশ্বনাথ সাহা।
বরিশাল ক্লাবের অমৃত লাল দে মিলনায়তনে আজ মঙ্গলবার স্কুল ব্যাংকিং কনফারেন্সে বরিশালের ৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিনিধির সামনে এসব পরামর্শ ও মন্তব্য করেন অতিথিরা। এসব তথ্য ও পরামর্শ সহপাঠীদের কাছে পৌছে দেওয়ারও আহবান জানান তারা।
ওই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন অতিথির । সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংক বরিশালের উপমহাব্যবস্থাপক স্বপন কুমার বিশ্বাস। এছাড়াও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংক বরিশালের মহাব্যবস্থাপক স্বপন কুমার দাশ, যমুনা ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপণা পরিচালক মির্জা ইলিয়াছ উদ্দিন আহম্মদাসহ অন্যরা। ওই অনুষ্ঠানের অতিথিদের বক্তব্যের চুম্বকাংশ বরিশাল নিউজের পাঠকদের জন্য তুলে দেওয়া হলো।

চারটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মতো সঞ্চয় আছে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের

বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে দেশের ৫৫টি ব্যাংক স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষার্থীদের যে পরিমান টাকা জমেছে তা দিয়ে চারটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংক বরিশাল শাখার নির্বাহী পরিচালক মনোজ কুমার বৈরাগী। তিনি বলেছেন, ”স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এ দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলে উপহাস করেছিল। সেই দেশ এখন এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিতে পরিনত হয়েছে।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন,”কেবল তোমাদের জমানো ১৬০০ কোটি টাকা দিয়েই চারটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা যাবে। আগামী ২০/৩০ বছর পর যখন বরিশাল ঢাকার সাথে পাল্লা দেবে তখন তোমরাই এর হাল ধরবে। তাই এখন থেকেই সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।”
তিনি বলেন,”আমাদের বর্তমান মাথাপিছু আয় ১৯০০ ডলার ছাড়িয়েছে। জনগনের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। দারিদ্রতা দূর হচ্ছে। এসব সাফল্যের কথা মাথায় রেখে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের লক্ষ্য ২০৪০ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হওয়া। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক চায় সকল জনগন আর্থিক খাতে অবদান রাখুক।”

”অন্তগভীর মনোনিবেশ”-বইয়ের দিকে নাও

বাংলাদেশ ব্যাংক বরিশালের নির্বাহী পরিচালক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন,”তোমরা সৌভাগ্যবান প্রজন্ম। জন্মের পরই তোমরা পুরষ্কার পাচ্ছো। আমরা চার আনার আইসক্রীম পেতাম না, তোমরা ৫০০ টাকার বার্গার খাচ্ছো। তোমরা অবশ্যই প্রয়োজন মাফিক খরচ করবে। তবে অহেতুক খরচ এড়িয়ে চলবে। এতে তোমার, পরিবারের ও দেশের লাভ।”
শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন আসক্তি নিয়ে তিনি বলেন,”মোবাইলের প্রতি তোমাদের যে অন্তগভীর মনোনিবেশ, সেটা পড়াশোনার ওপর দাও। তাহলে জীবনে উন্নতি করতে পারবে।”

”সাধ্যমাফিক খরচ করো”

সাধ্যমাফিক খরচ করতে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. হানিফ। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন,”তোমাদের সামান্য সঞ্চয় দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবে। এই টাকা তোমার, পরিবারের ও দেশের কাজে আসবে।”
শিক্ষার্থীদের সঞ্চয়ের গুরুত্ব বলতে গিয়ে নিজের জীবনের উদাহরণ টানেন অর্থনীতির এই শিক্ষক। তিনি বলেন,”এ অঞ্চলে আমার চেয়ে কোনো গরীব শিক্ষার্থী ছিলনা। আমি মা-বাবার কাছ থেকে কখনো কোনো টাকা নেইনি। আমি জীবনে কোনো পরীক্ষায় সেকেন্ড হইনি। আমার ক্ষুদ্র আয় আমি ছাত্র জীবনেই ব্যাংকে সঞ্চয় করেছিলাম। নিজের সাধ্যের মধ্যে থেকে সবসময় খরচ করেছি। সেই টাকার সুফল আজও আমি পাচ্ছি।”

বাঁশের ব্যাংকের টাকা অর্থনীতির কাজে আসেনা

বাংলাদেশ ব্যাংক বরিশাল শাখার মহাব্যবস্থাপক স্বপন কুমার দাস বলেছেন,‌‌”আগে আমরা বাঁশের ব্যাংকে টাকা জমাতাম। সেই দিন শেষ। কারন বাঁশের ব্যাংকের টাকা আমাদের দেশের অর্থনীতিতে কোনো ভূমিকা রাখেনা। যদি নিজের জায়গা থেকে অর্থনীতিতে অবদান রাখতে চাও তাহলে এই শিশু বয়স থেকেই ব্যাংকে সঞ্চয় করতে শুরু করো। আগামীতে তোমার ভবিষৎ গঠনে কাজে লাগবে।”

সঞ্চয়ের মনোভাব গড়ে দেয় ভবিষৎতের ভীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের বরিশাল শাখার উপমহাব্যবস্থাপক বলেছেন,”ছেলেবেলার সঞ্চয়ের মনোভাব ভবিষৎতের ভীত গড়ে দেয়। দেশের চারকোটি শিশু যদি টাকা জমায় সেটি দেশের অর্থনীতির ভীতও মজবুত করবে।”
কনফারেন্সে অন্যান্য বক্তারাও সঞ্চয়ের ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধকরণে বক্তৃতা দেন।
বরিশাল নিউজ/শাওন