ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণ



বরিশাল নিউজ।। মা ইলিশ রক্ষায় বুধবারের প্রথম লগ্ন থেকে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু ইলিশ ধরা অনেক ট্রলার সেই সময়ের মধ্যে মাছঘাট এসে পৌঁছুতে পারেনি। রাত ১২টার পর বরিশাল পোর্ট রোড মাছঘাটে এসে পৌঁছানো এরকম অনেক জেলের ইলিশ পানির দরে বিক্রি হয়েছে।

ইলিশ ক্রেতাদের কাছ থেকে জানা গেছে, দ্রুত ঘাটে পৌঁছানোর জন্য বেশ কয়েকেজন জেলে স্পিডবোট ভাড়া করেন। রাত সাড়ে ১২ টার দিকে তারা এসে ঘাটে পৌঁছান। এ সময় অর্ধেকেরও কম দামে ইলিশ বিক্রি হয়। তাদের স্পিডবোট থেকে বরিশাল গোয়েন্দা পুলিশের ১০ জনের একটি দল ১০০ কেজি ইলিশ ক্রয় করেন। এলসি সাইজের সেই ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৩০৬ টাকা কেজি দরে। তবে দাম এত কম হওয়ার পিছনে রয়েছে পুলিশের শ্রম। স্পিডবোট থেকে তারা নিজেরাই শ্রমিকের কাজটি করে দেন জেলেদের। এছাড়া এমন অনেক ক্রেতা রয়েছেন যারা ইলিশ বিক্রির এই শেষ সময়ের অপেক্ষায় থাকেন। তারাও মাছ ঘাটে অপেক্ষা করছিলেন। পানির দরে ইলিশ কেনার সুযোগ পেয়ে খুশি সবাই। জেলেরা ইলিশের দাম কম পেলেও শাস্তির ভয়ে দ্রুত মাছ বিক্রি করে লোকসানটা পুষিয়ে নেন।
তারপরেও পুরো মাছ বিক্রি করতে না পারায় জাকির হোসেন জাহিদ নামে এক ইলিশ বিক্রেতা সকালে ধরা পরেন ভ্রাম্যমান আদালতে। তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানান ইলিশ কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র দাস। তার কাছে মজুদ থাকা ৪৬ কেজি ইলিশও জব্দ করা হয়েছে।

কর্মহীন প্রধান মৎস্য আড়ত

এরপর থেকে পোর্টরোডের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশের আর দেখা মেলেনি। তাই তেমন খুচরা বাজারগুলোতেও দেখা গেছে একই অবস্থা।

ফলে অবতরণকেন্দ্র নির্ভর শ্রমিকরা অলস সময় পার করেন।

কিছু খুচরা ব্যবসায়ী অবতরণকেন্দ্রের মুখে পোয়া, চিংড়ি মাছ নিয়ে বিক্রির জন্য বসেন, কিন্তু সেখানেও নেই তেমন একটা ক্রেতাদের উপস্থিতি।

মৎস্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার এ সময়টাতে দেশি খাল-বিল ও চাষের কিছু মাছ বেচা-বিক্রি চলে অবতরণকেন্দ্রে।

তবে নিষেধাজ্ঞার পর যদি কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়া যায়, তাহলে অনেককেই আর্থিক লোকসানের সম্মুখীন হতে হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বিমল চন্দ্র দাস বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ শিকার বন্ধে আগাম যা যা করণীয় আমরা তার সবকিছুই করেছি। সকাল থেকে গোটা বরিশালজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আর মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক আজিজুল হক বলেন, সকাল থেকেই বিভাগের আওতাধীন নদী ও বাজারগুলোতে নজরদারি রাখা হয়েছে। তারপরও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ মাছ শিকার করলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও দুই বছর কারাদণ্ড দেওয়া হবে।

সহায়তা

বরিশাল জেলায় ৪৩ হাজার ৬৪৪ জন এবং বিভাগে ২ লাখ ২৭ হাজার ৯৪৩ জন জেলেকে নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে ২০ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান সহকারী পরিচালক আজিজুল হক।
বরিশাল নিউজ/স্টাফ রিপোর্টার