এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার

বরিশাল নিউজ।। পিয়াজের ঝাঁজে পুড়ছে দেশ। দাম নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই বেড়েছে চালের দাম। আর এখন বাড়লো গ্যাসের দান। রান্নার কাজে নিত্য ব্যবহার্য্য এ পণ্যটির দাম বেড়েছে একলাফে সিলিন্ডার প্রতি ১২০ টাকা।

দেশে এলপিজি বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলো রবিবার ১৭ নভেম্বর থেকে একযোগে সারাদেশে বর্ধিত মূল্য কার্যকর করেছে। ফলে দেশের সাধারণ মানুষের সাংসারিক ব্যয়ের পরিমাণ আরেক দফা বাড়ল।
সূত্রমতে, মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে গত কয়েকদিন থেকেই বরিশালের বাজারে এলপিজি নিয়ে নৈরাজ্য চলছে। কোম্পানিগুলোর স্থানীয় পরিবেশকরা গত বৃহস্পতিবার থেকে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সিলিন্ডার সরবরাহ করা এক প্রকার বন্ধ করে দিয়েছিল। মজুদ থাকা সিলিন্ডার পরিবেশকরা বর্ধিত মূল্যে বিক্রি করার জন্য কৌশলে সরবরাহ বন্ধ রেখেছিল বলে খুচরা বিক্রেতারা অভিযোগ করেন।

সোমবার সকালে এলপিজি কোম্পানিগুলোর বরিশালের একাধিক পরিবেশকরা বলেন, রবিবার থেকে প্রতিটি সিলিন্ডারের পাইকারী দাম ৯৭০ টাকা। খুচরা বিক্রেতদের এ দামে কিনতে হবে পরিবেশকদের কাছ থেকে। খুচরা বিক্রেতারা ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করবেন আরও ৩০ থেকে ৫০টাকা বেশি দামে। অর্থাৎ রবিবার থেকে ভোক্তাকে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে এক হাজার থেকে ১০২০ টাকায়।

এলপিজি কোম্পানি লাফার্জের বরিশাল আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মোঃ খালেদ বলেন, রবিবার থেকে সব কোম্পানির প্রতিটি সিলিন্ডারের পাইকারী মূল্য ৯৭০টাকা। সারাদেশে এ মূল্যে বিক্রি হবে। এলপিজি বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলো যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে এ কর্মকর্তা জানান। পূর্বের চেয়ে ১২০ টাকা বেশি টাকা বৃদ্ধির সঠিক কোন কারণ জানাতে না পারলেও গদবাঁধা উত্তরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বেড়েছে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক এলপিজি সরবরাহকারীরা জানান, এলপিজি কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করছেন সরকারী দলের এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সংসদ সদস্য। তাই কোম্পানি চাইলেও দাম না বাড়িয়ে পারবেন না। অরিয়ন কোম্পানির বরিশালের পরিবেশক তরিকুল ইসলাম বলেন, শীতে গ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধি পায়। তাই প্রতিবছর শীতের শুরুতে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করে কোম্পানিগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও দাম বেড়েছে বলে এ ব্যবসায়ীর দাবি। তিনি বলেন, প্রতিটি কোম্পানি তাদের স্থানীয় পরিবেশকদের গত সপ্তাহেই দাম বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

নগরীর গোঁড়াচাঁদ দাস রোডের খুচরা বিক্রেতা চৌধুরী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী জহিরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে স্থানীয় পরিবেশকরা তাদের গ্যাস সরবরাহ করছেন না। বেশিরভাগ পরিবেশকের মোবাইল নম্বর বন্ধ ছিলো। অনেকে ফোন ধরলেও সিলিন্ডার সরবরাহ না করার জন্য নানান অজুহাত দেখিয়েছেন। রবিবার থেকে তারা বর্ধিত মূল্য ৯৭০ টাকা দরে সিলিন্ডার সরবরাহ শুরু করেছেন। এ ব্যবসায়ী আরও জানান, কোম্পানিগুলোর একটি প্যাকেজ মূল্য ছিলো গ্যাসসহ একটি সিলিন্ডারের মূল্য ১৪০০ টাকা। গত বৃহস্পতিবার থেকে এ প্যাকেজ মূল্যের সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন পরিবেশকরা। নগরীর নিউ সার্কুলার রোডের খুচরা বিক্রেতা রাজ্জাক স্টোর্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রাজ্জাক একই অভিযোগ করে জানান, রবিবার থেকে তাদের বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে।
বরিশালের বাজারেএলপিজি সিলিন্ডার বাজারজাত করছে বেসরকারী যমুনা, বসুন্ধরা, ক্লিনহিট, টোটাল, অরিয়ন, পেট্রোম্যাক্স, লাফার্স, জি-গ্যাস, ডেলটা, নাভানা ইত্যাদি।
বরিশাল নিউজ/স্টাফ রিপোর্টার