বরিশাল নিউজ ডেস্ক।। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিদের আবাসিক সুবিধা বৃদ্ধি করতে ৬৪ টি জেলায় ২৮১৬টি আবাসন ভবন নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছে তার সরকার। প্রধানমন্ত্রী আজ রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোড এলাকায় সাতটি আবাসন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে একথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা মন্ত্রিসভার সদস্য, সচিববর্গ, অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের জন্য আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত ১৬৭১টি ফ্ল্যাটের উদ্বোধন করেছি।
তিনি বলেন, আমি মনে করি সুন্দর পরিবেশে প্রকল্প এলাকায় আবাসিক সুবিধা পেয়ে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিরা তাদের দায়িত্ব পালনে আরো মনোযোগি হবেন।
তিনি বলেন, তিনি ইতোমধ্যেই ঢাকায় সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিদের আবাসিক সুবিধা বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। ২০১৪ সালে শুধুমাত্র ৮ শতাংশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারির ঢাকায় আবাসন সুবিধা ছিল।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের ১৬টি প্রকল্পের অধীন ৬৩৫০টি ফø্যাট তৈরি করেছি এবং ১৩টি প্রকল্পের অধীন আরো ১৬৭৪টি ফ্ল্যাট তৈরির জন্য বরাদ্দ দিয়েছি। পাশাপাশি গুলশান, ধানমন্ডি এবং মোহাম্মদপুর এলাকায় ২০টি পরিত্যাক্ত বাড়িতে ৩৯৮ টি ফ্ল্যাট এবং চট্রগ্রামে পরিত্যাক্ত বাড়িতে ১৮২৪টি ফ্ল্যাট ও ৬৪ টি জেলায় ৬৪টি ডরমেটরি নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আরো ১৫টি পরিত্যাক্ত বাড়িতে ৩১৭ টি ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ ইতোমধ্যেই নেয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এবং সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারি ও সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিদের জন্য আমরা ইতোমধ্যেই ১৫১২টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করেছি।
তিনি বলেন, তাঁর সরকার সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিদের আবাসিক সুবিধা বৃদ্ধি করতে ৬৪ টি জেলায় ২৮১৬টি আবাসন ভবন নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সকলের জন্য আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তাঁর সরকারের কাজ করে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা স্বল্প ও মধ্য আয়ের লোকদের মাঝে বিক্রয় করার জন্য ইতোমধ্যেই ৩৩৫২৬ টি প্লট এবং ৮,৯২২ টি ফ্ল্যাট তৈরি করেছি। এর মধে উত্তরা এ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের তৃতীয় ধাপের অধীন ৬৬৩৬ টি ফ্ল্্যাট বিতরন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৮০৫টি ফ্ল্যাটের উন্নয়ন এবং ৮০৩৯ টি ফ্ল্যাটের নির্মাণ কাজ চলছে। তিনি আরো জানান, আমরা সারা দেশে আরো ১৮১৪৮ প্লট উন্নয়ন এবং ১ লাখ ৪১ হাজার ও ৬৮৭ ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। তিনি বলেন, ফ্ল্যাট নির্মাণ কাজ শেষ হলে নগরবাসীর আবাসন সংকট অনেকটা কমে যাবে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই না কোন নাগরিক বস্তিতে বসবাস করুক। সুতরাং আমরা বস্তিবাসীদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ করছি। মিরপুরে ৫৩৩ টি ফ্ল্যাটের নির্মাণ কাজ চলছে। তাদের জন্য ১৬ হাজারের বেশি ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সুপরিকল্পিত নগরায়নের জন্য আইন করেছি এবং ‘হাউজিংএন্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনিষ্টিটিউট’ অধ্যাদেশকে সময়োপযোগি করে আইন প্রণয়ন করেছি। প্রধানমন্ত্রী দেশে পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মাস্টার প্ল্যান প্রস্তুতের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপের পাশাপাশি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে জলাধার, ফসলী জমি ও পরিবেশ রক্ষার উপর জোর দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘একটি মাস্টার প্ল্যান প্রস্তুত করার পর আমাদের জেলা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে সুপরিকল্পিতভাবে উন্নতি ঘটাতে হবে।’
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে এ সাতটি প্রকল্পের মধ্যে গণপূর্ত বিভাগ চারটি এবং জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) তিনটি প্রকল্প সম্পন্ন করে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষকে একটি মানসম্মত জীবনযাত্রা উপহার দেয়ার জন্য আমরা স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাট, আবাসন, কলকারখানা যা-ই নির্মাণ করি না কেন, তা সুপরিকল্পিত উপায়ে সম্পন্ন করতে চাই। আমরা এলোমেলোভাবে কোন নির্মাণ কাজের অনুমতি দিতে চাই না।’
দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করার জন্য স্থপতি ও পরিকল্পনাবিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যে কোন পরিকল্পনা করার সময় আপনাদের জলাশয়গুলোর কথা মাথায় রাখতে হবে। কারণ, এগুলো পানির আধার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এগুলো পানি ধরে রাখে, যা জলাবদ্ধতা হ্রাসে সহায়তা করে।’
প্রয়োজনে সড়কগুলো যেন বাড়ানো যায় তা মাথায় রেখেই পরিকল্পনা করার জন্য শেখ হাসিনা স্থপতিদের প্রতি আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা ভবন নির্মাণে পুকুর, খাল ও জলাশয়গুলো ভরাট করার মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের মনমানসিকতার জন্যই এখন আর ঢাকা শহরের খাল ও পুকুর দেখা যায় না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই জলাশয়গুলো রক্ষায় পরিকল্পনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছি।’
বিগত ১০ বছরে সরকারের ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজের কথা তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশকে ২০২১ সাল নাগাদ একটি উন্নয়নশীল ও ২০৪১ সাল নাগাদ একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে তাঁর সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পূর্নব্যক্ত করেন।
এ ব্যাপারে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশকে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছি এবং এখন আমরা ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের আগেই এই দেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘তবে, আমরা শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় নগরীগুলোকেই উন্নত করতে চাই না, বরং গ্রামগুলোতেও সব ধরনের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে চাই।’
পরে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোডের গ্রেড-ওয়ান সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত তিনটি ভবনের মধ্যে আবাসন প্রকল্প ঘুরে দেখেন।
গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম ও মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লাহ্ খন্দকার অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে সাতটি প্রকল্পের একটি প্রামাণ্য ভিডিও চিত্রও প্রদর্শন করা হয়।