পাখিমারা খালে অবৈধ বাঁধ কাটছেন কলাপাড়া ইউএনও-বরিশাল নিউজ

পাখিমারা খালে অবৈধ বাঁধ কাটছেন কলাপাড়া ইউএনও-বরিশাল নিউজ

কলাপাড়া(পটুয়াখালী) নিউজ।। পটুয়াখালীর কলাপাড়ার নীলগঞ্জ ইউনিয়নে পানি নিষ্কাশনের প্রধান পাখিমারা খালে অবৈধ বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় পানিবন্দী হয়ে পড়ে শতশত পরিবার। বছরের পর বছর ধরে চলছে এই দুরাবস্থা। এছাড়াও পানিতে তলিয়ে থাকে প্রায় তিনশ একর আবাদি জমির ফসল। মরে যায় গাছপালা। বছরের প্রায় ছয় মাস এভাবে জলাবদ্ধ থাকায় এলাকায় পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধিসহ মশার উপদ্রব শুরু হয়। এ দুর্ভোগ থেকে রক্ষার জন্য কৃষকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার বাঁধ কেটে খালটি উম্মুক্ত করে দেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমান। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন শতশত গ্রামবাসী।

পাখিমারা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত সুজন রায়, মিঠুন হাওলাদার বলেন,বাড়ির উঠান থেকে শুরু করে মাছ চাষের পুকুর ডুবে রয়েছে কয়েক ফুট পানিতে। এ দুর্ভোগ তাদের নিত্যদিনের। স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়েদের গোটা বর্ষা মৌসুমে এভাবে কাঁদা,পানি ভেঙ্গে স্কুলে যেতে হয়। ডুবে রয়েছে ফসলের ক্ষেত। এ দুর্ভোগ থেকে রক্ষার জন্য গ্রামবাসীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করলে তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করে বাঁধ কাটার নির্দেশ দেন। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীরা প্রশাসনের উপস্থিতিতে বাঁধগুলো কেটে দেয়। এ বাঁধ কেটে দেয়ায় খুশি হাজারো মানুষ ।
এছাড়া প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ কুমির মারা গ্রামের যুগীরখালের বিভিন্ন পয়েন্টে ও স্লইজের মুখে মাছ ধরার জন্য পাঁচজন প্রভাবশালী জাম্বো জাল পেতে রেখে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করায় জাল আটক করে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

স্থানীয় কৃষক জাকির হোসেন, সুলতান আহম্মেদ ও আবু বকর মৃধা বলেন, যুগীর খালের শাখা খালগুলো বাঁধ দিয়ে অনেক অংশে ভরাট করে এখন চাষাবাদ করা হচ্ছে। তারা এ খালটি উদ্ধারের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর আবেদন করেছেন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ইউএনও সরেজমিনে ঘুরে দেখে কুমিরমারা ও মজিদপুর গ্রামের পানি নিস্কাশনের প্রধান ভাঙ্গা সস্নুইজগেটটি মেরামত ও প্রবাহমান খালের বিভিন্ন পয়েন্টে বাঁধ দিয়ে খালটি ভরাট করে ফেলায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে খালের সকল বাঁধ অপসারণের নির্দেশ প্রদান করেন।
একইদিন সন্ধায় চাকামইয়া ইউনিয়নের দিত্তা বাজার এলাকায় স্লুইজের মুখ আটকে পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে মাছ শিকারের জাল পাতায় বেহুন্দী জাল আটক করে পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং স্নুইজ গেটটি উম্মুক্ত করে দেয়া হয়।

উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী ও কৃষকদের অভিযোগ, কলাপাড়া উপজেলার ১২ টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার মধ্য দিয়ে বহমান শতাধিক খালের প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বাঁধ দিয়ে দখল করে নিয়েছে খাল সংলগ্ন প্রভাবশালীরা। এ কারনে বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই চাষাবাদের জমির পানি নিষ্কাশন হতে না পারায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দেয। একাধিক খালের মধ্যে পাকা স্থাপনা নির্মান করে যুগ যুগ ধরে বসবাস করছে প্রভাবশালীরা। মাছ চাষের জন্য দখল করা হয়েছে অর্ধশত স্নুইজ।
এ খাল দখল উচ্ছেদের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দশ দিন আগে মাইকিং করা হলেও বাঁধ অপসারণ না করায় সোমবার বিকাল থেকে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে উপজেলা প্রশাসন।
এ ব্যাপারে কলাপাড়া ভূমি অফিসের তহশীলদার জব্বার হোসেন বলেন, যেসব খালে বাঁধ দিয়ে প্রবাহ প্রতিবন্ধকতা করা হচ্ছে তালিকা করে সবগুলো বাঁধ কেটে ফেলা হবে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমান বলেন, কলাপাড়া উপজেলার সকল প্রবাহমান খালের বাঁধ অপসারণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষগ থেকে মাইকিং করা হয়েছিলো নিজ উদ্যোগে বাঁধ অপসারণের।
বরিশাল নিউজ/রাজু