পশু জবাইয়ের স্থান

বরিশাল নিউজ॥ পবিত্র ঈদ-উল-আযহায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) ৩০টি ওয়ার্ডে পশু জবাইয়ের জন্য ১৩৫ টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছরের নির্ধারিত স্থানের থেকে ৩৯ টি কম। তবে এতে পশু কুরবানি দিতে সাধারণ মানুষকে কোন ভোগান্তি হবে না বলে দাবি করছেন বিসিসি কর্তৃপক্ষ।
তারা জানান, পরিবেশ দুষণরোধে নির্দিস্ট স্থানে পশু কুরবানি করার বিষয়ে মন্ত্রনালয় থেকে একটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছিলো। এর ধারাবাহিকতায় গত তিন বছর ধরে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে কুরবানির পশু জবাইয়ের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে স্থান নির্ধারন করা হয়। এবারেও সেইভাবে স্থান নির্ধারন করা হয়েছে।
তবে পশু কুরবানির হার বেড়ে যাওয়ায় গত বছর নির্ধারিত স্থানের সংখ্যা বাড়ানো হলেছিল। কিন্ত সবজায়গাতে পশু কুরবানি হয়নি। তাই এ বছর যাচাই-বাছাই করে গত বছরের থেকে ৩৯ টি কমিয়ে ১৩৫ টি স্থান নির্ধারন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই তথ্য জনগণকে জানানোর জন্য ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি হ্যান্ডবিল, মাইকিং করার প্রস্তুতিও হাতে নেয়া হয়েছে।
এদিকে বিগত সময়ের মতো এই কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য নগরের ৩০টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরকে সভাপতি ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলরকে সহ-সভাপতি করে ৩০টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি গুলোতে সর্বোনিম্ন ৮ জন করে সদস্য রয়েছে। তবে এবারে কোন নির্ধারিত স্থান নয়, কাউন্সিলরা চাইলে যে কোন নির্ধারিত পশু কুরবানির স্থানে সাজ-সজ্জায় সজ্জিত করতে পারবেন।
এ ব্যাপারে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ভেটেরেনারী সার্জন ডা. রবিউল ইসলাম বলেন, দিনে দিনে নির্ধারিত স্থানে পশু কুরবানির হার বাড়ছে। তবে গতবছর কিছু জায়গায় পশু কুরবানি না হওয়ায় এবার নির্ধারিত স্থানের পরিমান কিছুটা কমেছে। তবে এতে কোন ধরণের ভোগান্তি হওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, এবারেও নির্ধারিত স্থান ঘিরে বর্জ্য অপসারন ব্যবস্থায় বস্তা ও ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি পশু কুরবানি দেয়ার স্থলের কার্যক্রমের ভিডিও ধারণ করা হবে।
ডা. রবিউল ইসলাম বলেন, নির্ধারিত স্থানের বাইরে যেমন নিজের বাড়ির আঙিনায় কিংবা মাঠে পশু কুরবানি দেয়ার ওপরে কোন নিষেধ নেই। তবে এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পশু কুরবানিদাতাদের নিজ দায়িত্বে বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। আবার তারা বর্জ্য ব্যাগ ভরে নির্ধারিত স্থানে রাখলে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা তা নিয়ে যাবে। নয়তো বর্জ্য ফেলে রেখে পরিবেশ দূষন করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। নির্দিষ্টস্থানে পশু জবাই করা হলে বিসিসির কর্মীরা দ্রুত ও অল্প সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করে পরিবেশ সুন্দর এবং দুষণমুক্ত রাখতে পারবে বলে মনে করছেন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মকর্তা দীপক লাল মৃধা।
উল্লেখ্য বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্ধারিত ওয়ার্ডভিত্তিক কুরবানির পশু জবাইয়ের এসব স্থানের মধ্যে সর্বনিম্ন ১, ২ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ২ টি করে এবং সর্বোচ্চ ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ৯ টি স্থান নির্ধারন করা হয়েছে। বিসিসির হিসেব অনুযায়ী বরিশাল সিটি কর্পোরশেন এলাকায় ২০১৫ সালে ৬১ টি, ২০১৬ সালে ১৪০টি এবং ২০১৭ সালে ১৭৪ টি স্থান কুরবানির পশু জবাইয়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়। প্রথম বছরে নির্ধারিত স্থানে ২০ শতাংশ কোরবানীর পশু জবাই হলেও দ্বিতীয় বছরে তা বেড়ে ৬০ শতাংশে গিয়ে দাড়ায় এবং পরের বছর নির্ধারিত স্থানে পশু জবাইয়ের হার আরো বেড়ে যায়।

বরিশাল নিউজ/শামীম