ববির উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত মহাসড়কে শামিয়ানা টাঙিয়ে অবরোধ কর্মসূচি-বরিশাল নিউজ

বরিশাল নিউজ।। ববির উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত বরিশাল-কুয়াকাটা-পটুয়াখালী-ভোলা মহাসড়কের ওপর শামিয়ানা টাঙিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা মাথায় সাদা কাপড় বেঁধে বুধবার বেলা ১১টার দিকে মহাসড়কে অবস্থান নেন। অবরোধের কারণে সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে মহাসড়কে সবধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পরেছেন যাত্রীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, উপাচার্যের পদত্যাগ বা ছুটিতে যাওয়ার লিখিত কপি হাতে না পাওয়া পর্যন্ত তারা এ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ও ইট ফেলে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরির পাশাপাশি টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে মহাসড়কের দুইপ্রান্তে প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। তবে অসুস্থ্য রোগী বহনকারী যানবাহনসহ জরুরি সেবার যানবাহনগুলোকে চলাচল করতে দিচ্ছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হলেও সেখানে উপাচার্যের পদত্যাগ বা ছুটিতে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। বরিশাল মহানগর পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানার ওসি মোস্তা্ফিজুর রহমান বুধবার বিকালে সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে মহাসড়কের উভয়পাশে প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চললে মানুষের ভোগন্তি আরও বেড়ে যাবে। তাই এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করা হচ্ছে, যাতে তারা মহাসড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।

এদিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন বিষয়ে উপাচার্য ড. এসএম ইমামুল হক মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের বলেন, এতে আমাদের কারও হাতে নেই। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে পদত্যাগ অথবা ছুটিতে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার ছুটিতে যাওয়ার মতো কোন কারন নেই। আর উপাচার্যকে কেউ ছুটিতে পাঠাতে পারেন না। ছুটি নিতে হলে আমি নিজে ছুটি চাইবো, সেটি প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে ছুটি আসবে। আর একটি হতে পারে রাষ্ট্রপতি আমাকে ডেকে বলবেন, তুমি ছুটি যাও। এছাড়া কারও কিছু করার এখতিয়ার নেই।
মেয়াদকাল বাড়বে কিনা এ বিষয়ে উপাচার্য বলেন, এটা আমি বলতে পারবো না, এটা প্রধানমন্ত্রীর বিষয়টি। আর মেয়াদকাল পর্যন্ত না থাকারও কোন সুযোগ নেই। কারোর হুমকিতে যদি আমাকে যদি রিজাইন করতে হয়, তাহলে বিষয়টি কি দাঁড়ায়। আমি এমন কিছু করিনি যে আমাকে হুমকির মুখে রিজাইন করতে হবে। ২৬ মার্চে আমার বক্তব্যকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। তার পরেও আমি যা বলেছি তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছি।

উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে একটি চা-চক্রের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ না জানানোর প্রতিবাদ করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এসএম ইমামুল হক শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা ‘ বলে গালি দেন। এর প্রতিবাদে ভিসির পদত্যাগের দাবিতে জোরদার আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের দুইদিনের মাথায় বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা ও শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা হল না ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে।