শামীম আহমেদ ।।’ওরা ১১জন’ দলের সম্মুখযোদ্ধা মীর আব্দুল মজিদকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন গেজেটভূক্ত ১০ মুক্তিযোদ্ধা। এজন্য তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন পাঠিয়েছেন।
ওই আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে-স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা মুক্তিযুদ্ধের গান গেয়েছেন এবং বিদেশী বন্ধুরা যারা সহযোগিতা করেছেন তাদেরকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। অসংখ্য ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বিভিন্নভাবে অসৎ উপায়ে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। অথচ জীবন বাঁজি রেখে নয় মাসের যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে বীরত্বের ভুমিকা পালন করা সত্বেও আমাদের একমাত্র সম্মুখ সহযোদ্ধা মীর আব্দুল মজিদকে আজও স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। বিভিন্ন সময় মুক্তিযোদ্ধার গেজেটভূক্ত করার জন্য স্থানীয় কমান্ডারদের দাবিকৃত মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিতে না পারায় স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও স্বীকৃতি মেলেনি রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর আব্দুল মজিদের। তাই এবারের স্বাধীনতা দিবসে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা মীর আব্দুল মজিদকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য তার সহযোগি গেজেটভুক্ত ১০ মুক্তিযোদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সূত্রমতে, বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পূর্ব মুন্ডপাশা গ্রামের মৃত মাজেদ আলীর পুত্র মীর আব্দুল মজিদ। ওই গ্রামের তার সহযোদ্ধা গেজেটভূক্ত মুক্তিযোদ্ধা জুলফিকার আলী মুন্সি, জাহাঙ্গীর সরদার, আবুল হোসেন মুন্সি, মোঃ রব হাওলাদার, আব্দুল মান্নান হাওলাদার, মোশারফ হোসেন মুন্সি, মোঃ আকরাম হোসেন, মোঃ নীল খান, মনিন্দ্র কুমার মিস্ত্রি ও আব্দুল আউয়াল হাওলাদার তাদের আবেদনে উল্লেখ করেন-স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ থেকে তারা উল্লেখিত দশজনসহ মীর আব্দুল মজিদকে নিয়ে ১১জনের একটি দল গঠণ করেন। প্রথমে তারা স্থানীয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ শুরু করেছিলেন।
পরবর্তীতে তারা ১১জন একসাথে ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দেশে ফেরার সময় যশোরের কালিগঞ্জে অধিনায়ক ওয়াজেদ গাজী ও কোম্পানী কমান্ডার আওলাদ হোসেনের নেতৃত্বে পাক সেনাদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ওই যুদ্ধে মীর আব্দুল মজিদ সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে বীরত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন। এরপর তারা ১১জনই নবম সেক্টরের কমান্ডার মেজর এমএ জলিলের নেতৃত্বে একাধিক সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর আব্দুল মজিদ (৬৬) একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে চান। বলেন, “দেশ স্বাধীনের পর সহযোগিদের নিয়ে আমি খুলনার হাদিস পার্কে আমার ৩০৩ রাইফেল জমা দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে একটি দুর্ঘটনায় আমার মুক্তিযুদ্ধের সকল কাগজপত্র হারিয়ে যায়। পরবর্তীতে সহযোদ্ধাদের পরামর্শে মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু হলে নির্ধারিত ফরম ও পরবর্তীতে অনলাইনে আবেদন করেছিলাম। ১০জন সহযোদ্ধার জোড়ালো স্বাক্ষীতে আমাকে একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সনাক্ত করা হয়। এরপর স্বীকৃতির জন্য স্থানীয় কমান্ডারের দাবিকৃত মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিতে না পারায় আমাকে যাচাই-বাছাইয়ের ‘খ’ শাখায় রাখা হয়। এ ব্যাপারে আপীল করা সত্বেও আজও আমার ভাগ্যে জোটেনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি।”
যুদ্ধ চলাকালীন সময় ১৮ বছরের টগবগে যুবক মীর আব্দুল মজিদ পেশায় একজন দিনমজুর। একমাত্র কন্যাকে পাত্রস্থ করেছেন। তিনপুত্রের মধ্যে দুইজন তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। স্ত্রী ও ছোট পুত্রকে নিয়ে তার অভাবের সংসার। বৃদ্ধ বয়সেও তাকে ভরণপোষনের জন্য দিনমজুরের কাজ করতে হচ্ছে। অর্থাভাবে বিনাচিকিৎসায় আজ তিনি নানারোগে আক্রান্ত হয়ে কোনমতে বেঁচে আছেন। মীর আব্দুল মজিদ শেষ বয়সে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে চান। এজন্য তিনি ও তার অপর ১০জন সহযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বরিশাল নিউজ/শামীম