বরিশাল নিউজ।। বরিশালে অনুষ্ঠিত কাজী সম্মেলনে বাল্যবিয়ের জন্য জনপ্রতিনিধিরাও দায়ী এমন অভিযোগ উঠে এসেছে। বেশ কয়েকজন কাজী (বিবাহ নিবন্ধক) ,এমনকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারাও এমন অভিযোগ করেছেন। বক্তব্য দিতে গিয়ে তারা বলেন “জনপ্রতিনিধিদের ঠেকানো কঠিন হয়ে উঠেছে।”

বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ অডিটরিয়ামে বুধবার  বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিবাহ নিবন্ধকদের বিভাগীয় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
বিভাগের ছয় জেলার প্রশাসনের কর্মকর্তা,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,জনপ্রতিনিধি,এনজিও প্রতিনিধি,কাজী এবং পুরোহিত প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার রাম চন্দ্র দাস।
বিভাগীয় কমিশনার অফিস ও ইউনিসেফ এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো.শফিকুল ইসলাম,ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি মি.এডওয়ার্ড বিগবেডার। সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো.খাইরুল আলম শেখ।
সম্মেলনে মুক্ত আলোচনায় বাল্যবিয়ে না পড়ানোর অঙ্গীকার করেন সবাই। বরিশাল জেলা কাজী সমিতির সভাপতি বলেছেন,বিয়ে না পড়ানোর অঙ্গীকারের পামাপাশি বিয়ের খবর পেলে সংশ্লিষ্ঠদের কাছে খবর দেয়ারও অঙ্গীকার করেন। বরিশাল কাজী সমিতির সহ-সভাপতি বাল্যবিয়ের জন্য শিশুদের হাতে মোবাইল দেয়ার সমালোচনা করেন। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক রাশিদা বেগম বলেছেন,বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের পর আর আপডেট জানা হয় না। তিনি বিষয়টি মনিটরিং এর পরামর্শ দেন। রাশিদা বেগম আরো বলেন ২০১৯ সালে এসে কাজী সম্মেলন করতে হচ্ছে এটা দুর্ভাগ্যজনক। জেলা রেজিস্ট্রার শেখ মো. মহিবুল্লাহ বলেছেন,”কাবিন নামায় বর-কনের স্বাক্ষর নেয়া হয় না। তাদের স্বাক্ষর মাস্ট।”
বেশ কয়েকজন কাজী বাল্য বিয়ে ঠেকাতে কাজীদের মতো নোটারি পাবলিক এর আইনজীবীদেরও শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান। এনজিও প্রতিনিধি রহিমা সুলতানা কাজল বলেছেন,”কাজীরা এখন অনেক সচেতন।নোটারি প্রচুর বাল্যবিয়ে করাচ্ছেন।”
পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলা থেকে আসা পুরোহিতরা জানান, হিন্দু ধর্মে পুরোহিতরা বিয়ে পড়ান,তাই তাদের আইনের আওতায় আনা দরকার।নিবন্ধরা বিয়ের নিয়ম জানেন না।
বরিশাল নিউজ/এমএম হাসান