ঢাবিতে নতুন ভোটের দাবি।

বরিশাল নিউজ ডেস্ক।। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে করচুপির অভিযোগ এনে নতুন ভোটের দাবিতে উপাচার্যের কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে ভোট বর্জনকারীরা।

পুনঃভোটের দাবি জানিয়ে আসা পাঁচটি প্যানেল সোমবার ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিলেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তার তেমন কোনো প্রভাব দেখা যায়নি।

কোটা সংরক্ষণ আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ, প্রগতীশীল ছাত্রজোট, ছাত্র ফেডারেশন, স্বতন্ত্র জোট ও স্বাধিকার স্বতন্ত্র জোটের নেতাকর্মীরা দুপুরে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে মিছিল করে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে যান।

তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করলে কার্যালয়ের কলাপসিবল গেইট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ডাকসু নির্বাচনে জিএস পদপ্রার্থী ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজীর বলেন, “সব শিক্ষার্থীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ১১ মার্চের জালিয়াতির নির্বাচনের বিরুদ্ধে আমরা এখানে অবস্থান নিয়েছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান চলতে থাকবে।”

জিএস পদে সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের প্রার্থী রাশেদ খান বলেন, “নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির পরেও অনেক ভোট পড়ায় দুটি পদে আমাদের হারাতে পারেনি। মেয়েদের হলগুলোর পূর্ণাঙ্গ ফলাফলে আমি জিতেছি, কারণ সেখানে ছাত্রীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।

“ছেলেদের হলগুলো ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সেখানে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয় এই নির্বাচন অসম্পূর্ণ ও প্রশ্নবিদ্ধ।”

ডাকসুর ভিপি পদে স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থী অরণি সেমন্তি খান বলেন, “আমরা যখনই উপাচার্যের কাছে যাই, তিনি শুধু বলেন লিখিত অভিযোগ দাও। নির্বাচনের আগেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। নির্বাচনের পরেও অনেক লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু এই নির্লজ্জ ভিসি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা এখানে অবস্থান নিয়েছি। এই ভিসি আমাদের দাবি মানতে বাধ্য।”

স্বাধিকার স্বতন্ত্র জোটের জিএস প্রার্থী এআরএম আসিফুর রহমান বলেন, “সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থায় এই নির্বাচন হয়েছে। আমরা বার বার মিডিয়াকে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার কথা বললেও তা করা হয়নি। ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। এখন তারা প্রমাণ দেওয়ার কথা বলছে। কিন্তু প্রমাণ দেওয়ার রাস্তা আগেই বন্ধ করে রেখেছে।”

২৮ বছর পর গত ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই কারচুপির অভিযোগ তুলে নতুন করে ভোটগ্রহণের দাবিতোলে ছাত্রদল, বাম জোট, কোটা আন্দোলনকারীদের ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দুটি জোটের প্যানেল।

ফলাফলে দেখা যায়, ডাকসুতে ২৫টি পদের ২৩টিতে সরকার সমর্থক ছাত্রলীগ জিতলেও ভিপিসহ দুটি পদে জয় পেয়েছে কোটা সংস্কার দাবির আন্দোলনকারীদের প্যানেল।

ভিপি পদে নির্বাচিত নূরুল হক নূর গত শনিবার গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রযাত্রায় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের পুনর্নির্বাচনের দাবিতে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন।
মধুর ক্যান্টিনে
রোববার বিকালে রবিবার বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ফল বাতিল করে পুনঃতফসিল ঘোষণার দাবিতে সোমবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

পরে একই জায়গায় সংবাদ সম্মেলনে বাকি চারটি প্যানেলের পক্ষে একই কর্মসূচি ঘোষণা করেন স্বতন্ত্র জোটের ভিপি প্রার্থী অরণি সেমন্তি খান।
-বিডিনিউজ২৪