নিহতদের দাফনে প্রস্তুত ক্রাইস্টচার্চ

বরিশাল নিউজ ডেস্ক।। ক্রাইস্টচার্চ হামলায় নিহতদের মরদেহ আজ রোববার সন্ধ্যায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন ও পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ। নিহতদের দাফনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা দাফনের জন্য নির্ধারিত স্থানে অপেক্ষা করছে।

শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। হামলার দুদিন পার হলেও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এখনো তাদের প্রিয়জনের মরদেহ পাননি বলে দেশটির দৈনিক নিউজিল্যান্ডে হেরাল্ডের অনলাইন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ইসলামী আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জানাজা সম্পন্ন করা উচিত। মূলত কোনোভাবে যেন সেটা ২৪ ঘণ্টা পার না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখা হয়। কিন্তু মসজিদে নৃশংস হামলার ঘটনার দুদিন পার হলেও নিহতদের পরিবার এখনো জানে না তাদের কাছে কখন মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

নিউজিল্যান্ডের পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ বলেছেন, তাদের সদস্যরা প্যাথলজিস্ট ও করোনারিদের সঙ্গে লাশ হস্তান্তরের বিষয়ে কাজ করছে। তারা তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন। যত দ্রুত সম্ভব মরদেহ হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মাইক বুশ আরও বলেন, লাশ হস্তান্তরের আগে মৃত্যুর সঠিক কারণ ও নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে আমাদের নিশ্চিত হতে হবে। তারপরই মূলত আমরা হস্তান্তর করতে পারবো। তবে প্রথাগত ও ধর্মীয় রীতিনীতি সম্পর্কেও আমরা সর্বোচ্চ সচেতন। আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব লাশ হস্তান্তর করা যায়।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন বলেছেন, “রবিবার সন্ধ্যা থেকে অল্পসংখ্যক মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে। আমরা আশা করছি আগামী বুধবারের মধ্যে সব মরদেহ নিহতদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে।” পুলিশের পক্ষ থেকেও এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে ক্রাইস্টচার্চের পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ জানান, আল নূর মসজিদেই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে সবচেয়ে বেশি। সেখানেই আরেকটি লাশ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে দিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ জন হয়েছে।

২৮ বছর বয়সী বর্ণবাদী ট্যারেন্টকে শনিবার আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে আপাতত হত্যার অভিযোগ আনা হলেও পরে আরও অভিযোগ যুক্ত করা হতে পারে।

শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের সময় প্রথমে আল নূর মসজিদে ঢুকে সেমি অটোমেটিক রাইফেল দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালান ট্যারেন্ট। পুরো ঘটনা তিনি হেলমেটে বসানো ক্যামেরা দিয়ে ফেইসবুকে লাইভ করেন।

আল নূরে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে গাড়ি নিয়ে ট্যারেন্ট যান পাঁচ কিলোমিটার দূরে লিনউড মসজিদে। সেখানেও একই কায়দায় গুলি শুরু করেন তিনি। এক পর্যায়ে মসজিদের খাদেম ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে গিয়েঅস্ত্র কেড়ে নিলে বাইরে অপেক্ষায় থাকা গাড়িতে উঠে পালিয়ে যান ট্যারেন্ট।

রয়টার্স জানিয়েছে, মসজিদে হামলার ঘটনায় নিহতদের জন্য রবিবার ক্রাইস্টচার্চের গির্জায় গির্জায় প্রার্থনা করা হয়। এখনও ৩৪ জনকে ক্রাইস্টচার্চ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তাদের মধ্যে ১২ জন রয়েছেন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে।