ভোলায় এবার লক্ষ্যমাত্রার প্রায় তিনগুন জমিতে তরমুজ আবাদ -বরিশাল নিউজ


ভোলা নিউজ।। ভোলায় এবার লক্ষ্যমাত্রার প্রায় তিনগুন জমিতে তরমুজ আবাদ করা হয়েছে। এরফলে হেক্টর প্রতি তরমুজ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৫০ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ দেবনাথ বলেন, তরমুজে সাধারণত ধানের চেয়ে ৪ থেকে ৫ গুণ লাভ বেশি হয়। এজন্য অনেক কৃষক তরমুজ আবাদে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কোন কোন কৃষক তরমুজ বিক্রিও শুরু করেছেন। প্রথম দিকে তারা বেশ ভালো দাম পাচ্ছেন। পাতার ও ফলের রোগ সমাধানে কৃষি কর্মকর্তারা সব ধরনের পরামর্শ সেবা দিয়ে আসছেন কৃষকদের। যদি আর ১৫ থেকে ২০ দিন আবাহওয়া সহায় থাকে তবে তরমুজের বাম্পার ফলন হবে বলে জানান এ কৃষি কর্মকর্তা।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, এ জেলায় সাধারণত ব্লাক বেরি, সুপার এমপিআর, পাকিজা, ব্লাক ডায়মন্ড, ট্রাফিক্যল ড্রাগন, সুইট জায়েন্ট, ড্রাগন, সুলতান, আনার কলি, বিগ ফ্যামিলি জাতের তরমুজ আবাদ বেশি করা হয়। পাশাপাশি এবারই নতুন উন্নত জাত হানি কুইন ও লেন ফাই জাতের আবাদ করা হয়েছে। তিনি বলেন, হলুদ রঙ্গা এ তরমুজ মিষ্ট হওয়ায় চাহিদাও বেশী। একেকটি তরমুজ ৫ থেকে-৬ কেজি ওজনের হয়। প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে কর্তমানে বিক্রি হচ্ছে।
তরমুজ চাষিরা জানান, গত বছর মৌসুমের প্রথম দিকে বৃষ্টিপাত হওয়ায় তরমুজের ফলন আশানুরূপ হয়নি। ফলে অনেক কৃষককে গুনতে হয়েছে লোকসান। এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বেশি তরমুজের আবাদ হয়েছে। তাই আশা করা যাচ্ছে লোকসান পুষিয়ে লাভবান হবেন কৃষকরা।
ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান ও কবির হোসেন জানান, তারা প্রায় দেড় একর জমিতে এবছর তরমুজের আবাদ করেছেন। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা তাদের সব ধরনের সেবা দিয়ে আসছেন। আগামী ৮-৯ দিনের মধ্যে তারা প্রথম পর্বের তরমুজ বিক্রি শুরু করবেন।
ধনীয়া ইউনিয়নের তরমুজ চাষি লিয়াকত আলী, আজগর আলী, সুবেদ মিয়া, রহমত মাঝি ও আজাহার হাওলাদার বলেন, তারা প্রত্যেক বছরই তরমুজ আবাদ করে থাকেন। তরমুজ মাঠে প্রথম দিকে ভালো থাকে। কিন্তু শেষ সময়টাতে ভয় বেশি থাকে। কারণ শিলা বৃষ্টি ও অতি বৃষ্টি এর প্রধান শত্রু । যদি এ সময়টাতে প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হয় তবে তারা লাভবান হবেন।
কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ দেবনাথ বলেন, তরমুজের বেশি ক্ষতি হয় শিলা বৃষ্টিতে। তাই শিলা বৃষ্টিতে তরমুজের ক্ষেতের উপর পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া অতি বৃষ্টিতে পানি জমে যাতে গাছের গোড়া পচঁতে না পাড়ে সে জন্য বিশেষ স্প্রে’র কথা বলেন জেলা কৃষি বিভাগের প্রধান এ কর্মকর্তা।
বরিশাল নিউজ/শরীফ