ছাত্রী গণধর্ষনের অভিযোগে গ্রেপ্তার সাদিক ও সরোয়ার-বরিশাল নিউজ

বরিশাল নিউজ।। বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় নবম শ্রেণির এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে গণধর্ষনের অভিযোগে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এর দুই ছাত্র সাদিক ও সরোয়ারকে গতরাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপর অভিযুক্ত শাওন পলাতক।
পলাতক শাওন ধর্ষনের শিকার ছাত্রীটির প্রেমিক বলে জানা গেছে। ছাত্রীটি শাওনের মেসে যাওয়ার পর এই ঘটনা ঘটে।
পরে ওই গণধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে আবারও বাসায় ডেকে প্রেমিকাকে গণধর্ষণ করা হয়।
এ ঘটনায় মাদরাসা ছাত্রীর মা সোমবার দুপুরে গৌরনদী থানায় মামলা করেছেন। এ মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত গাইবান্ধার সাদিক সরকার গৌরনদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ও একই সেমিস্টারের শিক্ষার্থী শেরপুরের সরোয়ার হোসেন। মামলার প্রধান আসামি শাওন একই কলেজের একই সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায়।

গৌরনদী থানা পুলিশের ওসি গোলাম সরোয়ার বলেন, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কয়েক মাস আগে মাদরাসাছাত্রী সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে শাওনের। গত ৭ ফেব্রুয়ারি শাওন তার প্রেমিকাকে ফোন করে উপজেলা শহরের জান্নাত মঞ্জিলের ভাড়া বাসায় দেখা করতে বলে। ওই বাসার একটি ফ্ল্যাটে তিন বন্ধু একসঙ্গে বসবাস করত। প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে প্রেমিকা ওই বাসায় আসলে গণধর্ষণ করে তিন বন্ধু। এ সময় গণধর্ষণের ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ১১, ১২ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি একইভাবে বাসায় ডেকে ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে তিন বন্ধু।

ওসি গোলাম সরোয়ার আরও বলেন, জান্নাত মঞ্জিলের মালিকের এ বিষয়ে সন্দেহ হলে তিন বন্ধুকে বাসা থেকে নামিয়ে দেয়। এরপর তারা উপজেলার নাঠৈ এলাকায় বাসা ভাড়া নেয়। এরপর নাঠৈ এলাকার বাসায় আসতে মাদরাসাছাত্রীকে ফোন করা হয়। মাদরাসা ছাত্রী যেতে অস্বীকার করলে ভিডিও ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়।

মাদরাসা ছাত্রী রবিবার রাতে বিষয়টি তার মাকে জানায়। সোমবার সকালে মাকে নিয়ে গৌরনদী মডেল থানায় এসে পুলিশকে বিষয়টি জানায় ছাত্রী। সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা শহরের নাঠৈ অভিযান চালিয়ে দুই বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় শাওন।
বরিশাল নিউজ/রাহাত