বরিশাল প্রেসক্লাবের হল রুমে সংবাদ সম্মেলন করেন কবির সিকদারের স্ত্রী হনুফা বেগম-বরিশাল নিউজ

বরিশাল নিউজ।। বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে কয়েদি কবির সিকদারের (৪০) আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্ত্রী হনুফা বেগম। বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বন্ধ থাকা ডিভিশন ভবন সংলগ্ন রান্নাঘরের আড়ার সঙ্গে গামছায় ঝুলন্ত কবিরের মরদেহ উদ্ধার করেন কারারক্ষীরা।

শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের হল রুমে সোমবার এই সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। লিখিত বক্তব্যে হনুফা বলেন, ‘আমার স্বামী কবিরকে হত্যা করা হয়েছে নাকি আত্মহত্যা, সেটা বুঝে উঠতে পারছি না। তবে আমার দৃঢ়বিশ্বাস, তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন না। তিনি সন্তানদের খুবই ভালোবাসতেন। জেলে যখন তার সঙ্গে দেখা করতাম তখনই কবির আমাদের সাহস যোগাতেন। কিছুদিন আগে যখন তার সঙ্গে দেখা করি, তখন তার জামিনের কথাও বলেছি। আর সেই মানুষটা কিভাবে আত্মহত্যা করেন সেটা আমি বুঝতে পারছি না।’

কবির সিকদার ভোলা জেলার মনপুরা থানা এলাকায় চুরির ঘটনায় ১৯৯৯ সালে দায়ের হওয়া একটি মামলায় ১৯ বছর পর ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর গ্রেফতার হন। সেই ঘটনায় তার ১০ বছরের সাজা হয়। এরপর তাকে পিরোজপুর কারাগারে নেওয়া হয়। পরে বাদীর স্থানীয় ঠিকানা অনুযায়ী ভোলা কারাগারে পাঠানো হয় তাকে। সেখানে প্রায় ৩-৪ মাস থাকার পর কবিরের অসুস্থতার কারণে তাকে বরিশাল কারাগারে পাঠানো হয়। বরিশাল কারাগারে তিনি সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিলেন।

হনুফা বেগম দাবি করেন, ভোলা এবং বরিশাল কারাগারে কবির সুস্থ এবং স্বাভাবিক ছিলেন। মৃত্যুর সাতদিন আগেও তার সঙ্গে দেখা করেছেন হনুফা। সে সময়ে তাকেই (হনুফা) ধৈর্য ধরতে বলেন কবির। তাকে কোনো রকম বিচলিত মনে হয়নি। চলতি মাসে ৫ তারিখ তার জামিন হওয়ার কথা ছিল। হঠাৎ করে এমন কি হলো যে জামিনের সাতদিন আগে তিনি আত্মহত্যা করবেন।

তিনি বলেন, ‘২৮ ফেব্রুয়ারি আমরা তার সঙ্গে দেখা করতে আসি। সকাল ৯টা থেকে পাঁচবার টিকিট কাটি, কিন্তু তবু তার দেখা পাওয়া যায়নি। পরে জেল থেকে আমাদের জানানো হয় তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কখনো বলে টিকিট হারিয়ে গেছে। বিকেল ৪টার দিকে এসে বলে, কবির বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতালে যাওয়ার পর পুলিশ আমাদের লাশঘরের দিকে নিয়ে যায় এবং আমাদের লাশ দেখায়, জানায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পরে জানতে পারি হাসপাতালে নেওয়ার আগেই কবিরের মৃত্যু হয়।’

হনুফা বেগম বলেন, ‘কবির যদি আত্মহত্যা করেই থাকেন, তাহলে কেন আমাদের সকাল থেকে হয়রানি করা হয়েছে। আবার আত্মহত্যা করলে কবির সিকদারের বুকে কালো দাগ ও দুই হাতে কালো দাগ কিসের ছিলো। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। পাশাপাশি এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সু-দৃষ্টি কামনা করছি।’

এ ব্যাপারে সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বনিক বলেন, চুরি মামলায় ১০ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত কবির সিকদারকে গত বছরের অক্টোবর মাসের ২ তারিখ অসুস্থর কারণে ভোলা কারাগার থেকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। বরিশালে এনে তাকে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে রেখে চিকিৎসা দিয়ে পুনরায় কারাগারের নিয়ে আসা হয়। পরে কারা অভ্যন্তরেই চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি ঝাড়ুদারের কাজ করতেন কবির। গত মাসের ২৮ তারিখ দেওয়াল টপকে ডিভিশন ভবন সংলগ্ন রান্নাঘরে গিয়ে কারাগারের গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন কবির।

প্রশান্ত কুমার বলেন, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া ময়না-তদন্তের রিপোর্ট এখনো হাতে পাইনি। তা পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে ওই ভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই কারারক্ষীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। কবির সিকদারের পরিবার কেন এ ধরনের অভিযোগ করছেন, তা আমরা বুঝতে পারছি না।

সংবাদ সম্মেলনে হনুফা বেগমের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কবির সিকদারের ৫ বছর বয়সী মেয়ে সাইমুনা ও ১০ মাস বয়সী মেয়ে মাইশা এবং ভাই আব্দুল জলিল।
বরিশাল নিউজ/শামীম