দুষিত বর্জে কীর্তনখোলার প্রাণীকূল ও জীব-বৈচিত্র হুমকির মুখে-বরিশাল নিউজ

বরিশাল নিউজ।। বরিশালে অপসোনিন কেমিক্যালের কারখানা এবং দপদপিয়ায় গ্লোবাল ক্যাপসুলের কারখানা থেকে বিষাক্ত তরল বর্জ্য নির্গত হওয়ার প্রমান মিলেছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। । নদীর তীরে স্থাপিত হওয়ায় গ্লোবাল ক্যাপসুলের বর্জ্য সরাসরি কীর্তনখোলায় নির্গত হয়। অপরদিকে অপসোনিন কেমিক্যালের দূষিত বর্জ্য ছাড়া হয় বগুড়া রোডের ড্রেনে। ওই ড্রেনের সংযোগ ভাটারখাল হয়ে কীর্তনখোলায় মিশেছে বলেন তারা।
পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আরেফিন বাদল বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে অপসোনিন গ্রু্পের কর্মকর্তাদের একাধিকবার চিঠি দেয়া হয়েছে। নগরীর দপদপিয়া সংলগ্ন কীর্তনখোলার তীরে থাকা গ্লো্বাল ক্যাপসুল কারখানায় নতুন শোধনাগার স্থাপনের জন্য সম্প্রতি তারা পরিবেশ অধিদফতরে ডিজাইন জমা দিয়েছেন। সেটি এখন পরিবেশ অধিদফতরের কেন্দ্রীয় অফিসের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আর কেমিক্যাল কারখানাটি পর্যায়ক্রমে দপদপিয়ায় স্থানান্তরের কথা জানিয়েছে অপসোনিন কর্তৃপক্ষ।

পরিবেশ অধিদফতরের বিভাগীয় অফিসের সহকারী বায়োকেমিস্ট মোন্তাসির রহমান জানান, সর্বশেষ গত বছর ৬ আগস্ট অপসোনিন কেমিক্যালের এবং ২৫ জুলাই গ্লোবাল ক্যাপসুলের তরল বর্জ্যের সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে যে মাত্রা পাওয়া গেছে তা সবই নদীর জলজ প্রাণীকূল ও জীববৈচিত্রের সহনীয় মাত্রার বাইরে। মোন্তাসির রহমান বলেন, অপসোনিনের এ দুটি কারখানার বর্জ্য শোধনাগার বিধিমতো স্থাপিত হয়নি। বিষয়টি প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলদের বারবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
বিষাক্ত বর্জ্য নির্গত করার অভিযোগ অস্বীকার করে অপসোনিন গ্রু্পের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ হানিফ বলেন, তাদের সবগুলো কারখানার শোধনাগার সঠিকভাবে স্থাপিত হয়েছে। শোধনও সঠিকভাবে হচ্ছে। পরিবেশ অধিদফতরের অভিযোগ ভিত্তিহীন। পরিবেশ অধিদফতর লিখিতভাবে জানিয়েছে এ কথার জবাবে অপসোনিনের ওই কর্মকর্তা বলেন, কখনোই তারা লিখিতভাবে কোন অভিযোগ পাননি।

পরিবেশ অধিদফতরের মতো একই অভিযোগ করে বিসিসির ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ রবিউল ইসলাম বলেন, বগুড়া রোডের কারখানা সংলগ্ন সিটি কর্পোরেশনের ড্রেন অপসোনিন সীমানা প্রাচীর দখল করে নিয়েছে। কারাখানা থেকে গরম পানি জাতীয় বিষাক্ত বর্জ্য ড্রেনে নির্গত হচ্ছে। বিসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা প্রাণহানির আশঙ্কায় ওই ড্রেন পরিস্কার করতে চায়না। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে জানানো হয়েছে। মেয়র এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এই দুশিত বর্জের কারনে কীর্তনখোলার প্রাণীকূল ও জীব-বৈচিত্র হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন পরিবেশকর্মীরা।
বরিশাল নিউজ/শামীম