বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার সুগন্ধা নদীর চরে অতিথি পাখিদের আবাস-বরিশাল নিউজ

বরিশাল নিউজ।। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার সুগন্ধা নদীর চরে অতিথি পাখিদের নতুন আবাসস্থল গড়ে উঠেছে। চরের ডোবা,ছোট খাল আর গাছের ডাল ভরা পাখি দূর থেকে দেখে তৃপ্তি মেটান সেখানের বাসিন্দারা। ছোট থেকে বৃদ্ধ সবাই বললেন, ‘কী যে আনন্দ আমাদের ! বিকাল হলে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা গ্রামে ফিরে আসে। আবার সকাল হলে বেরিয়ে পরে খাবারের খোঁজে। ‘

পাখি দেখতে আর ছবি নিতে আমরা বিকাল সাড়ে তিনটার মধ্যে পৌঁছে যাই সেই লামচর ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে। আমাদের আগেই জানানো হয়েছিল পাখিরা ফিরতে শুরু করবে আসরের আযানের পর থেকে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র পিছনে ফেলে আমরা এগিয়ে যাই নদীর কাছাকাছি। সেখানে নতুন ভিত্তিপ্রস্তর বসানো ‘আজাহার শরীফের বাড়ীর রাস্তা’র মোড়ে তিনটি দোকান। দোকানের সামনে বেঞ্চ ছাড়া আর কোথাও বসার জায়গা নেই। কাঞ্চন হাওলাদারের দোকানে বিক্রি হয় চটপটি,পুরি,পিয়াজু ,চা-বিস্কুট। আর দুইটি মুদি মনোহরির দোকান। এই দুই দোকানেও চা বিক্রি হয়। বাড়ীঘর অনেক দূরে দূরে।

লামচর ক্ষুদ্রকাঠি গ্রাম-বরিশাল নিউজ

মুদি দোকানী হারুন এর কাছে জানতে চাইলাম এই দোকানে লোক আসে? ব্যবসা হয়? দোকানী জানালেন বিকাল হলেই গ্রামের লোকজন সেখানে আড্ডা জমায় ।

তার দোকানে টিভিও আছে। টিভিতে ক্রিকেট খেলা দেখতে কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিড় জমে গেল । কয়েক তরুনকে দেখা গেল খোলা মাঠে বসে স্মার্টফোনে ক্রিকেট খেলা দেখছে। সেখানে খেলা,চটপটি আর চা চলছে সমান তালে। টিভিতে শিল্পী ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল এর মৃত্যুর খবর দেখে তার গান নিয়েও আলোচনা করছিলেন কেউ কেউ। এক বয়স্ক এসে বললেন,’এরশাদ কি বেঁচে আছেন? খবরটা ধরতো।’ অন্যজন বললেন,’সাতটার খবরে দেখবা। এখন খেলা দেখ।’

কবে থেকে এই গ্রামে পাখির দেখা মেলে ? তাদেরই একজন শফিকুর রহমান খান বললেন, ‘১৫/২০ বছর তো হবেই। প্রথম দিকে কম আসতো। ৫/৭ বছর হয় বেড়েছে। এখন হাজার হাজার পাখি আসে। ‘ গ্রামবাসী ইউনুস গাজীসহ অন্যরা জানান, ক্ষুদ্রকাঠি গ্রাম এলাকায় প্রায় ২০ বছর আগে চর জাগতে শুরু করে। আর সেই থেকেই পাখি আসা শুরু ।

সুগন্ধার বুকে অস্ত যাচ্ছে সূর্য। সেই লাল আলোয় হাজার হাজার পাখির নদীতে ভেসে বেড়ানো আর আকাশে উড়ে বেড়ানোর দৃশ্যে সেকি মুগ্ধতা! তাদের কিচির মিচির ডাকে ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামটিতে যেন সৃষ্ঠি হয়েছে আনন্দময় অন্য এক ভুবন।

এরআগে বাবুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাসাগর দিঘী এলাকায় অতিথি পাখির আবাস ছিল। সেই পাখিকে ঘিরে সেখানে পর্যটন স্পট গড়ে উঠে। দুর্গাসাগর এলাকাকে ঘোষণা করা হয় পাখির অভায়ারণ্য । কিন্ত কাছেই একদিকে বিমান বন্দর,অন্যদিকে দেয়ালের বাইরে প্রায় ২৪ ঘন্টা গাড়ী চলাচল। সেই সাথে দিঘী এলাকায় পর্যটকদের কোলাহল। তাই সেখানে এখন আর আগের মতো পাখি বসে না।

ধারণা করা হচ্ছে এসব অতিথি পাখি লোকালয় ছেড়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জেগে উঠা নির্জন চরে আশ্রয় নিয়েছে।

এই ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে বাড়ী সাবেক পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের। তিনিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা পাখিদের আশ্রয় এবং নিরাপত্তার কথা ভেবে বিষয়টি প্রচারে আগ্রহী হননি বলে জানালেন পাখি প্রেমিক এলাকার লোকজন। গ্রামবাসীরা দূর থেকে এই অতিথিদের নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছেন। সেখানকার প্রভাবশালী এক যুবক মো.পলাশ বললেন,এই জীব বৈচিত্র তারা ধরে রাখতে চান। জানালেন, গ্রামবাসী সবাই এ ব্যাপারে সচেতন।
বরিশাল নিউজ/ শাহীনা আজমীন