আগৈলঝাড়া উপজেলার ‘দুস্থ মানবতার প্রাইভেট হাসপাতাল-বরিশাল নিউজ

বরিশাল নিউজ।। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ‘দুস্থ মানবতার প্রাইভেট হাসপাতাল’ এ এক প্রসূতির মৃত্যুর পর তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করার ঘটনা ঘটেছে।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা বলেছেন, ‘প্রসূতি পলি অধিকারীর অনেক আগেই মৃত্যু হয়েছে। তার মরদেহে অক্সিজেন দিয়ে দুই ঘণ্টা পর এখানে পাঠানো হয়।’
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেদের দায় এড়াতে িএই ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গোপনে দুস্থ মানবতার হাসপাতালের ব্যবস্থাপক সুমন ফকির, কর্মকর্তা রুস্তম ও গোলাম মোস্তফা তাদের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে পলির মরদেহ নিয়ে যান মামার বাড়ি শশিকর থানার দোনারকান্দি গ্রামে।

পরে মামা দধিরামের বাড়িতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে মরদেহের সৎকার করা হয়। বিষয়টি যাতে প্রশাসনের নজরে না আসে এবং এ ঘটনায় কেউ মামলা করতে না পারে সেজন্য তড়িঘড়ি করে মরদেহের সৎকার করা হয় বলে জানান পলির মামা দধিরাম।

এদিকে, বিষয়টি জানাজানি হলে প্রসূতির স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নিহত পলি অধিকারী আগৈলঝাড়ার বাহাদুরপুর গ্রামের লিটন অধিকারীর স্ত্রী।

পলির স্বজনরা জানান, পলি অন্তঃসত্ত্বা হলে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক ও সাবেক ইউপি সদস্য কালীপদ ওঝার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলে। প্রসবব্যথা শুরু হলে ৩০ জানুয়ারি পলিকে দুস্থ মানবতার প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পল্লী চিকিৎসক কালীপদ ওঝা বলেন, দুস্থ মানবতার প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসক প্রশান্ত রায়ের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু হাসপাতালের অনভিজ্ঞ চিকিৎসক আশ্রাফুল আলম ও হাসপাতালের মাঠকর্মী অর্পনা পান্ডে রোগীকে সিজারিয়ান করাতে হবে বলে জানান। সিজারিয়ান অপারেশন না করে স্বাভাবিক প্রসবের কথা জানালে অর্পনা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমার বাগবিতণ্ডা হয়

পল্লী চিকিৎসক কালীপদ ওঝা আরও বলেন, ৩১ জানুয়ারি পলির সিজারিয়ান অপারেশন করেন গৌরনদী হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি) বিপুল বিশ্বাস। অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ছিলেন ওই হাসপাতালের চিকিৎসক বর্তমানে ডেপুটেশনে আগৈলঝাড়ায় কর্মরত চিকিৎসক আবদুল্লাহ আল মামুন।

 দুস্থ মানবতা হাসপাতালের ব্যবস্থাপক সুমন ফকির বলেন, পলির হার্টের সমস্যা ছিল। অপারেশনের পর হার্টের সমস্যায় মারা যান পলি।

এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের ওসি মো. আফজাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। তবে কেউ অভিযোগ করেনি। আভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বরিশাল নিউজ/শামীম