বরিশালে দেশের ৩১ তম সেনানিবাসের উদ্বোধন আজ


বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯টি ডিভিশনের আওতায় দেশে ৩০টি সেনানিবাস রয়েছে। বরিশালে স্থাপিত শেখ হাসিনা সেনানিবাসটি দেশের ৩১ তম  সেনানিবাস ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বৃহস্পতিবার  ৮ ফেব্রুয়ারি তার নামে নামকরণ করা শেখ হাসিনা সেনানিবাস এর উদ্বোধন করবেন।
পায়রা নদীর তীরে নির্মিতব্য সেনানিবাসে সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর পৌঁছুনোর কথা। সেখানে সকাল সাড়ে ১০টায় সাত পদাতিক ডিভিশনের ১১ ইউনিটের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সেনানিবাস এর উদ্বোধন করবেন তিনি।
শেখ হাসিনা সেনানিবাস এর মাধ্যমে সরকার ঘোষিত ফোর্সেস গোল-২০৩০-এর আওতায় আন্তর্জাতিক মানের সেনাবাহিনী গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।
প্রস্তাবিত প্রকল্পে বলা হয়েছে,শেখ হাসিনা সেনানিবাসটি গড়ে উঠবে এক হাজার ৫৩২ একর জমির ওপর। এর মধ্যে ৫৬৭ একর জমি রাজস্ব বাজেটের আওতায় কেনা হয়েছে। অবশিষ্ট ৯৬৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে।
এজন্য বরাদ্দ হয়েছে এক হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা । প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ২০২১ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে । প্রস্তাবিত সেনানিবাসে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে প্রায় ১৭ হাজার।
প্রকল্পের আওতায় ৩৫ হাজার ৩৪২ বর্গমিটার আয়তনের আটটি অফিস ভবন ও ২ লাখ ২৩ হাজার ২৯৪ বর্গমিটার আয়তনের ১২টি আবাসিক ভবন ও নয়টি অন্য ভবন নির্মান করা হবে।
এছাড়া প্রকল্পের আওতায় ৫০ লাখ ৩১ হাজার ৫৯৮ ঘনমিটার মাটি ভরাটের কাজ , তিন লাখ ৬৫ হাজার ১৪৯ বর্গমিটার বিটুমিনাস রোড ও এক লাখ ৭৩ হাজার ৯৪০ বর্গমিটার সারফেস ড্রেন তৈরি করা হবে।
‘শেখ হাসিনা সেনানিবাস ’ প্রকল্পটি ২০১৬ এর নভেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন হয়।

বরিশালে কেন সেনানিবাস
দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ উপকূলীয় এলাকা বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলটি দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ । অথচ এই এরাকায় কোন সেনানিবাস ছিলনা। নগরীর কাশিপুরে সেনানিবাস এর জন্য জমি অধিগ্রহন করে রাখা রয়েছে বহু বছর ধরে।
পরিকল্পনা মন্ত্রনালয় সূত্র জানায় ,দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে সরকারের বেশ কিছু মেগা প্রকল্পের কাজও চলছে। এরমধ্যে তিন হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে পায়রায়। সেখানে দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের কাজও চলছে। একই সঙ্গে একটি বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে সরকারের নেওয়া এসব মেগা প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনানিবাসটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলা বরিশাল, বরগুনা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও ভোলা উপকূলবর্তী জনপদ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরের যশোর সেনানিবাসের সহায়তা নিতে হয়। এই সেনানিবাসের কাজ শেষ হলে উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করা সহজ হবে। এসব বিবেচনা করেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।

Comments

comments

২০১৮-০২-০৮T১০:৫৭:০৬+০০:০০বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৮ ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ|