২০১৭ সালে ব্যাংকিং সেক্টর ভাল ছিল

২০১৭ সালে ব্যাংকিং সেক্টর ভাল ছিল

বরিশাল নিউজ ডেস্ক।। বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তদারকি বৃদ্ধি করায় বিদায়ী অর্থ বছর ২০১৭ সালে ব্যাংকিং সেক্টরে সার্বিক পরিস্থিতি ভাল ছিল।
বিদায়ী বছরে কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যাংক লোনে বিশৃঙ্খলার কারণে খেলাপি ব্যাংক লোনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফার্মাস ব্যাংক লিমিটেড এবং এনআরবি বাণিজ্যিক ব্যাংকসহ কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ডের শীর্ষ নির্বাহীদের অপসারণ করা হয়েছে।
বাংলদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গর্ভনর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান আজ বাসসকে জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক এ সকল পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাংক সেক্টরে সুশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে এবং এ ক্ষেত্রে সফলতাও অর্জিত হয়েছে।
তিনি বলেন, বিদায়ী বছরে ডিপোজিট, এ্যাডভান্স, বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভ, মূদ্রা বিনিময় হার, আমদানি ও রফতানি, মূদ্রাস্ফীতিসহ অধিকাংশ সূচক স্থিতিশিল ছিল এবং বেসরকারি ব্যাংক লোনও সন্তোষজনক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে ডিপোজিট ও লোনের পরিমাণ ১০.৪৮ শতাংশ থেকে ১৩.৫৫ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়ে ডিপোজিট ৯.০৬ লাখ কোটি টাকা থেকে ৯.৭৭ লাখ কোটি টাকা হয়েছে। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ক্লাসিফাইড লোন ছিল ১০.৩৪ শতাংশ। তবে সেপ্টেম্বরে ক্লাসিফাইড লোন ছিল ১০.৬৭ শতাংশ।
হাসান বলেন, ক্লাসিফাইড লোনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এ জন্য ব্যাংক পুন:তফসিলীকৃত লোন আদায় করতে পারেনি।
২০১৭ সালের জুলাই থেকে অক্টোবর পযর্ন্ত আমদানি ২৮.৭১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৮,৫২৬.৬০ মিলিয়ন ডলার হয়েছে। এ বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পযর্ন্ত রফতানি ৬.৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৪,৫৬২.৯১ মিলিয়ন ডলার হয়েছে। ২০১৭ সালে রিজার্ভের পরিমাণ হয়েছে ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশের ৯ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য এটি যথেষ্ট। বিগত কয়েক মাসে রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়ে জুলাই থেকে নভেম্বর পযর্ন্ত সময়ে হয়েছে ৫৭৬৮.৫৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিগত বছরের এই সময়ের চেয়ে ১০.৭৬ শতাংশ বেশি। আগের বছরের এ সময়ে ছিল ৫,২০৮.১২ মলিয়ন মার্কিন ডলার।
রাজী হাসান আরো বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু পদক্ষেপের কারণে প্রবাসী বাংলাদেশীরা বৈধ চ্যানেলে দেশে টাকা পাঠানোর কারণে বিগত কয়েক বছরে রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই কৃষি লোন বিতরণের লক্ষ্যমাত্রার ৪০.৩৫ শতাংশ বিতরণ করা হয়েছে। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রথম পাঁচ মাসে ২০,৪০০ কোটি টাকার মধ্যে ৮,২৩০.৮৮ কোটি টাকা কৃষি লোন বিতরণ করা হয়েছে।
রাজী হাসান আরো বলেন, মধ্য আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জনে সহায়তা করতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে এজেন্ট ব্যাংকিং ও গ্রীন ব্যাংকিং বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন কাজ করে যাচ্ছে। স্কুল ব্যাংকিংয়ে সারা দেশে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ নাগাদ ডিপোজিটের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১,২০০ কোটি টাকা। এ সময় পর্যন্ত স্কুল ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়ে ১৩ লাখের বেশি।
সৌজন্যে-বাসস

Comments

comments

২০১৭-১২-৩১T১৭:২২:৪০+০০:০০রবিবার, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৭ ৫:২০ অপরাহ্ণ|