তিন ফসলী জমি রক্ষার দাবিতে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

মিলন কর্মকার রাজু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)।। তিন ফসলী জমি রক্ষার দাবিতে কাফনের কাপড় বেঁধে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ধানখালী ও চম্পাপুরী ইউনিয়নের চারটি গ্রামের বাসিন্দারা বিক্ষোভ করেছেন।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় তিন ফসলী জমি রক্ষার দাবিতে কাফনের কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ-বরিশাল নিউজ

ইউনিয়নের পাঁচজুনিয়া, ছৈলাবুনিয়া, নিশানবাড়িয়া ও চম্পাপুর ইউনিয়নের দেবপুর গ্রামের এসব বাসিন্দারা বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানখালীতে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের পথ রোধ করে পৈত্রিক ভিটা ও বেঁচে থাকার শেষ সম্বল রক্ষার কর্মসূচি পালন করেন।
এই দাবিতে তারা গত ১৮ অক্টোবর পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছিলেন। তারা দাবি করেন সেনাকল্যান সংস্থা ও আশুগঞ্জ কোম্পানী প্রায় এক হাজার একর জমি অধিগ্রহনের জন্য গ্রামবাসীদের তিন ও ছয় ধারায় নোটিশ প্রদান করেছে। বৃহস্পতিবার পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরী সরেজমিনে তথ্য যাচাইয়ের জন্য ধানখালী ইউনিয়নে আসলে হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীরা এ জমি অধিগ্রহন বন্ধের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
পরে তিন ফসলী জমি রক্ষার দাবিতে অন্দোলনরত গ্রামবাসীদের সাথে দুপুরে ধানখালী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) মামুনুর রশিদ, কলাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আঃ মোতালেব তালুকদার, ধানখালী ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ তালুকদার,চম্পাপুর ইউপি চেয়ারম্যান রিন্টু তালুকদার, শিক্ষানুরাগী আনসার উদ্দিন মোল্লা, সমাজকর্মী মো. আতাউর রহমান মিলন মিয়া, গ্রামবাসী মো. মোস্তফা মেহেদী, ফরিদ তালুকদার, আফজাল হোসেন ও আঃ মন্নান।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় তিন ফসলী জমি রক্ষার দাবিতে কাফনের কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ-বরিশাল নিউজ

সভায় আনসার উদ্দিন মোল্লা বলেন, ধানখালীতে দুটি বিদ্যুত কেন্দ্র হয়েছে। এখানে আর কতো্ বিদ্যুত কেন্দ্র হবে। বিভিন্ন চরে হাজার হাজার একর জমি অনাবাদি পড়ে আছে অথচ তিন ফসলী এ জমি নেয়ার জন্য তাদের চাপ দেয়া হচ্ছে। তারা জীবন দিবেন তবুও এক ইঞ্চি জমি আর কোন বিদ্যুত কেন্দ্রকে দিবেন না।
ফরিদ উদ্দিন তালুকদার বলেন, কৃষি নির্ভর ৮৫ ভাগ মানুষের বেঁচে থাকার শেষ সম্বল এ জমি অধিগ্রহন করা হলে ৯৫ ভাগ ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে। মুজিবনগর খ্যাত ধানখালী ও চম্পাপুরের নৌকা পাগল মানুষকে ভিটেমাটি না ছাড়া করার দাবি জানান।
কলাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আঃ মোতালেব তালুকদার বলেন, বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মান করতে এতো জমি দরকার কিনা বিষয়টি ভাবা উচিত। কেননা এ দুই ইউনিয়নের মানুষ তিন ফসলী এই কৃষি জমির উপর নির্ভরশীল।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) মামুনুর রশিদ বলেন , জমি অধিগ্রহনে জনগনের যাতে কোন ক্ষতি না হয় তা সরকারকে অবহিত করা হবে।
সভায় জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার হলো কৃষি,শিল্প ও উন্নয়ন বান্ধব সরকার। তাই তিন ফসলী জমিতে যাতে আবার কোন বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মান না হয় তা তিনি সরকারের উর্ধ্বতন মহলে অবহিত করবেন এবং হাজারো গ্রামবাসীর দাবি তুলে ধরবেন।
বরিশাল নিউজ/রাজু

Comments

comments

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

Latest posts by স্টাফ রিপোর্টার (see all)

২০১৮-১১-০৮T১৯:৪৭:১৩+০০:০০বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৮, ২০১৮ ৭:৩৪ অপরাহ্ণ|