‘আমি বাড়ি যাবো; কিন্তু আবার ফিরে আসবো’

৪৭ বছর পর স্মৃতি ফিরে পাওয়া সুনেকা বেগম ফিরে পেলেন স্বজনদেরও -বরিশাল নিউজ

ভোলা নিউজ।। ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের মতিন সিকদার এক নারীকে শুধু আশ্রয় দেননি,৪৭ বছর পর তাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন স্বজনদের কাছে।
এই ঘটনায় আশ্রয়দাতা এবং স্বজনহারা সেই পরিবার এক নতুন আত্মীয়তায় বাধা পরেছেন। দুই পরিবারে এসেছে ফিরে পাওযার অন্যরকম আনন্দ।
আশ্রয় দাতা মোশারফ সিকদারের ছেলে বর্তমান মুলাদী থানার ওসি জিয়াউল আহসান সিকদার জানান, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন বোরহানউদ্দিন কাচিয়া ইউনিয়নের সিকদারহাটে মানসিক প্রতিবন্ধী এক যুবতী মহিলাকে দেখে মতিন সিকদার বাড়ির মরহুম মোশারফ সিকদার তাকে বাড়িতে নিয়ে আশ্রয় দেন। মানসিক প্রতিবন্ধী ওই নারী শুধু মোহন ও ছাত্তার শব্দ দুইটি ছাড়া আর কিছুই বলতে পারতো না। তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করানো হলে তার মানসিক রোগের কথা জানান যায়। ডাক্তার আরো বলেন,তার স্মৃতি মুছে গেছে। সেই থেকে ওই নারী তাদের বাসায় আশ্রিতা হিসাবে বসবাস করতে শুরু করে । তারা তাকে পরিবারের সদস্য হিসাবেই আলগে রাখে। বর্তমানে তার বয়স ৭০ এর বেশী।
ওসি জিয়াউল আহসান সিকদার বলেন, ‘তিনি আমাদের নিজের সন্তানের মতো মানুষ করেছেন। আমরাও তাকে মায়ের মতো শ্রদ্ধা করতাম। এক সময় তার ঠিকানা সন্ধানের আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। ‘
জিয়াউল আহসান সিকদার আরো বলেন, ২০১৭ সালে শেষের দিকে হঠাৎ তার স্মৃতি কিছুটা ফিরে আসতে শুরু করে এবং মোহন, ছাত্তার এগুলোর পাশাপাশি গয়নাঘাটা, পালদী, আলা মসজিদ, ভাই রাজা এগুলো বলতে থাকেন। মাস দুয়েক আগে তার ছোট ভাই নাজমুল সিকদার তাকে ফোনে জানান রিজির মা (আমরা তাকে এই নামে ডাকি) গৌরনদীর আলা মসজিদের কাছে তাদের বাড়ি এবং পিতার নাম ইব্রাহীম বলে জানিয়েছেন। এই তথ্যটুকু পেয়ে তিনি গৌরনদী থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে আলা মসজিদের কাছে ইব্রাহীম মিয়া নামের কোন লোক বসবাস করত কিনা এবং তার কোন মেয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হারিয়ে গেছে কিনা তা জানার জন্য অনুরোধ করেন। গৌরনদী থানার অফিসার ইনচার্জ গৌরনদীর বর্তমান লিটন কাউন্সিলরের সাথে যোগাযোগ করলে কাউন্সিলর ঘটনার সত্যতা উদ্ধার করে তাদের পরিবারের লোকজনকে মুলাদি থানায় তার কাছে পাঠিয়ে দেন।
ওই পরিবারের সদস্য ডাক্তার সামাদ জানান, ‘আমি সুনেকা বেগমের একমাত্র মেয়ের জামাই। আমি বিয়ের সময় শুনেছি আমার শাশুরীর গোপালগঞ্জের কোটালি পাড়াতে বিয়ে হয়েছিল এবং শশুরের নাম মোহন। কিন্তু আমার স্ত্রীর জন্মের কিছুদিন পর তার মানসিক রোগ হয় এবং আমার নানা শশুর তাকে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি হারিয়ে য়ান। এত বছর পর আমরা ধরে নিয়েছি তিনি মারা গেছেন। কিন্তু আল্লাহর অশেষ কৃপায় আমরা তাকে ফিরিয়ে পেয়েছি। বাকি জীবন আমাদের সাথে থাকুক এই জন্য নিতে এসেছি।’ তার মোশারফ সিকদারের পরিবারকে কৃতজ্ঞা জানান।
পরিবারের সদস্যদের পেয়ে খুশি সুনেকা বেগম , ‘আমি বাড়ি যাবো; কিন্তু আবার এখানে ফিরে আসবো।’
বরিশাল নিউজ/শরীফ

Comments

comments

২০১৮-১২-০৪T১৯:৫৯:০৯+০০:০০মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৪, ২০১৮ ৭:৫৯ অপরাহ্ণ|